স্মৃতির ভেতর যে মানুষটি রয়ে যায়
সন্ধ্যার সময় ঘরটি খুব ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছিল। প্রথমে জানালার কাচে আলো কমে গেল। তারপর টেবিলের ওপর রাখা কাপটির ছায়া হলো। দেয়ালের রং আর আগের মতো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ঘরে বসে থাকা মানুষটি তখনও একই জায়গায় ছিল। সে নড়ছিল না। শুধু মাঝে মাঝে তার ডান হাতটি টেবিলের ওপর রাখা আঙুলগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যেন সেখানে কিছু খুঁজছে।
কী খুঁজছে, সে নিজেও জানত না।
অনেক বছর পরে মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই অতীত ফিরে আসে। কোনো ছবি নেই, কোনো পুরোনো চিঠি নেই, কোনো পরিচিত মানুষের কণ্ঠও নেই। তবু হঠাৎ মনে হয়, এই মুহূর্তটি আগে একবার ঘটেছিল। হয়তো সত্যিই ঘটেছিল। হয়তো ঘটেনি। স্মৃতির সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সে সত্য আর মিথ্যার মধ্যে খুব স্পষ্ট কোনো সীমারেখা রাখে না।
শৈশবের একটি ঘর মনে পড়ে।
ঘরটি হয়তো এত বড় ছিল না। কিন্তু এখন মনে হয়, সেখানে অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটা যেত। জানালার পাশে একটি চেয়ার ছিল। চেয়ারে বসলে বাইরে রাস্তা দেখা যেত। একজন মানুষ প্রতিদিন একই সময়ে সেই রাস্তা দিয়ে যেত। শিশুটি জানত না লোকটির নাম। তার সঙ্গে কখনো কথা বলেনি। তবু বহু বছর পরও লোকটির হাঁটার শব্দ তার মনে থেকে যায়।
কেন? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না।
মানুষ সাধারণত বড় ঘটনাগুলো মনে রাখতে চায়। জন্মদিন, মৃত্যু, বিয়ে, যুদ্ধ, বিচ্ছেদ, অসুখ—এসবের জন্য আমরা তারিখ রাখি। কিন্তু জীবন তারিখ মেনে স্মৃতি তৈরি করে না। বরং সবচেয়ে সামান্য জিনিসগুলো কখনো সবচেয়ে গভীরে ঢুকে যায়। রান্নাঘর থেকে আসা পোড়া দুধের গন্ধ। ভেজা কাপড়ের গন্ধ। শীতের সকালে কারও ঠান্ডা হাত। ঘুম থেকে উঠে দেখা, ঘরের অন্য মানুষটি নেই।
একটি দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শব্দ। শুধু একটি শব্দ। কিন্তু সেই শব্দের ভেতর কখনো কখনো একটি সম্পূর্ণ জীবন আটকে থাকে।

মানুষের শরীরও স্মৃতি ধরে রাখে। আমরা অনেক সময় ভাবি, স্মৃতি মস্তিষ্কের মধ্যে থাকে। কিন্তু শরীর আমাদের অন্য কথা বলে। কোনো পুরোনো ভয় হঠাৎ ফিরে এলে বুক শক্ত হয়ে আসে। এমন একজন মানুষের সামনে দাঁড়ালে, যাকে আমরা বহু বছর দেখিনি, যার কথা আমরা মনে রাখিনি বলেই বিশ্বাস করেছি, শরীর প্রথমে তাকে চিনে ফেলে। চোখ হয়তো তখনও চিনতে পারেনি। কিন্তু হাতের তালু ঘেমে যায়। শ্বাস বদলে যায়। কাঁধ শক্ত হয়ে ওঠে।
শরীর ভুলে যায় না। বরং শরীর কখনো কখনো আমাদের হয়ে মনে রাখে। এই কারণেই হয়তো অতীত থেকে পালানো এত কঠিন। আমরা একটি শহর ছেড়ে অন্য শহরে যেতে পারি। বাড়ি বদলাতে পারি। পুরোনো বন্ধুত্ব শেষ করতে পারি। এমনকি নিজের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু পরিচয়ও বদলে ফেলতে পারি। কিন্তু শরীরকে কোথায় রেখে যাব?
আমরা তাকে সঙ্গে নিয়েই যাই। একজন মানুষ যখন তার শৈশবের কথা বলে, সে আসলে শুধু শৈশবের কথা বলে না। সে সেই সময়ের ঘর, গন্ধ, ভয়, পরিবার এবং সমাজের কথাও বলে। একটি শিশুর স্মৃতি কখনো শুধু তার নিজের নয়। তার মধ্যে তার বাবা-মায়ের নীরবতা থাকে। তাদের ভয় থাকে। তাদের অসমাপ্ত কথাবার্তা থাকে। এমন কিছু ইতিহাস থাকে, যার অর্থ সে তখন বুঝতে পারেনি।
বড় হয়ে সে বুঝতে পারে, তার শৈশবের কিছু ঘটনা আসলে তার পরিবারের ইতিহাসের অংশ ছিল। আর পরিবারের ইতিহাস আবার একটি দেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।
ইতিহাস সাধারণত বইয়ে লেখা হয়। সেখানে তারিখ থাকে, নাম থাকে, যুদ্ধের বিবরণ থাকে। কিন্তু একটি দেশের প্রকৃত ইতিহাস হয়তো আরও নিঃশব্দ জায়গায় বাস করে। একটি ঘরে, যেখানে বহু বছর ধরে কেউ একটি নাম উচ্চারণ করে না। একটি আলমারিতে, যেখানে পুরোনো কাগজ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। একজন বৃদ্ধের মুখে, যিনি একই প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবার অন্যদিকে তাকান।
নীরবতাও একটি দলিল।
কখনো একটি পরিবারে কোনো বিষয়ে কথা বলা নিষেধ থাকে। কেউ বলে না কেন। শিশুটি শুধু বুঝতে শেখে—এই প্রশ্ন করা যাবে না। সে প্রশ্নটি মনে রাখে। বড় হয়। সংসার করে। নিজের সন্তান হয়। তারপর একদিন সেই একই প্রশ্ন তার সন্তানের সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন সে বুঝতে পারে, নীরবতাও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়। মানুষ শুধু সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় না। ভয়ও পায়। লজ্জা পায়। অপরাধবোধ পায়। কখনো এমন একটি দুঃখ পায়, যার উৎস সে জানে না।
একটি ঘরে দুজন মানুষ পাশাপাশি বসে আছে। তারা কথা বলছে। একজন বলছে, কাল সকালে বাজারে যেতে হবে। অন্যজন বলছে, হ্যাঁ, যেতে হবে। এতটুকুই। কিন্তু কথার নিচে আরও অনেক কথা পড়ে আছে। তারা দুজনেই জানে, কিন্তু কেউ উচ্চারণ করছে না। বহু বছর আগে তাদের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনাটি হয়তো খুব ছোট ছিল। বাইরের মানুষ জানলে হয়তো বলত, এতে এমন কী হয়েছে? কিন্তু তাদের কাছে সেটিই ছিল একটি সীমারেখা। তার আগে তারা অন্য মানুষ ছিল। তার পরে অন্য মানুষ হয়ে গেছে।
তবু তারা একসঙ্গে থেকেছে। মানুষের সম্পর্কের সবচেয়ে রহস্যময় দিক হয়তো এটাই। আমরা অনেক সময় যাদের ভালোবাসি, তাদের কাছেই সবচেয়ে বেশি কথা লুকাই। কারণ ভালোবাসা সবসময় সত্য বলার সাহস দেয় না। কখনো কখনো বরং সত্যকে আরও গভীরে লুকিয়ে রাখে।
কেউ একজন রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে। অন্যজন জেগে আছে। ঘরের অন্ধকারে সে ঘুমন্ত মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মুখটি পরিচিত। এত পরিচিত যে তাকে আর দেখার প্রয়োজন নেই। তবু সে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ তার মনে হয়, এই মানুষটির সঙ্গে তার জীবনের কতটা সময় কেটে গেছে, অথচ এই মানুষটিকে সে কখনো পুরোপুরি জানতে পারেনি।
কেউ কি কাউকে পুরোপুরি জানতে পারে? সম্ভবত পারে না। কারণ প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই এমন কিছু ঘর থাকে, যেখানে অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। এমনকি নিজেরও নয়।
স্মৃতি সেই বন্ধ ঘরের দরজায় মাঝে মাঝে এসে দাঁড়ায়। দরজা খোলে না। শুধু ভেতর থেকে একটি শব্দ শোনা যায়। তারপর আবার নীরবতা।
আমরা তখন বুঝতে পারি, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হয়তো সেই ঘটনাগুলো নয়, যেগুলো আমরা পরিষ্কারভাবে মনে করতে পারি। বরং সেসব মুহূর্ত, যেগুলো আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না, অথচ যাদের প্রভাব থেকে বের হতে পারি না।
শৈশবের কোনো ভয়। একটি অসমাপ্ত বিদায়। কোনো মানুষের মুখ। কারও হাত ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্ত। একটি বন্ধ দরজা। এসব আমাদের ভেতরে থেকে যায়। বছর কেটে যায়। শহর বদলায়। মানুষ বদলায়। আমরা নিজেদের সম্পর্কে নতুন নতুন গল্প তৈরি করি। বলি, তখন আমি ছোট ছিলাম। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তখন পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। এখন আমি অন্য মানুষ।
কথাগুলো হয়তো সত্য। তবু পুরো সত্য নয়।
কারণ সেই ছোট মানুষটি কোথাও হারিয়ে যায়নি। সে আমাদের ভেতরে বসে আছে। কখনো ভয় পায়। কখনো রাগ করে। কখনো এমন কিছু চায়, যার কথা আমরা স্বীকার করতে চাই না।
বয়স বাড়ার অর্থ হয়তো অতীতকে পেছনে ফেলে আসা নয়। বরং ধীরে ধীরে বুঝতে শেখা যে অতীত কখনো পেছনে ছিল না। সে আমাদের সঙ্গে হাঁটছিল। আমরা শুধু তাকে দেখতে পাইনি। রাত গভীর হলে ঘরের সব শব্দ কমে যায়। বাইরে গাড়ি চলে যায়। দূরে কোনো কুকুর ডাকে। তারপর সেটিও থেমে যায়। মানুষটি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কাচে তার নিজের মুখ দেখা যায়। অন্ধকারে মুখটি স্পষ্ট নয়।
কিছুক্ষণ সে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর মনে হয়, মুখটি যেন পরিচিত অথচ অচেনা। এই মানুষটি কে? সে কি সেই শিশু, যে জানালার পাশে বসে একজন অচেনা পথচারীর জন্য অপেক্ষা করত? সে কি সেই তরুণ, যে প্রথমবার ভালোবাসার ভয় পেয়েছিল? সে কি সেই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যে নিজের জীবনের অনেক কথা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছে? নাকি এরা সবাই একই মানুষ?
সম্ভবত স্মৃতি আমাদের আলাদা আলাদা মানুষে ভাগ করে না। বরং তাদের একসঙ্গে ধরে রাখে। শিশুটি, তরুণটি, বৃদ্ধটি—সবাই একই শরীরের ভেতর বাস করে। তাই নিজের দিকে তাকানো মানে শুধু বর্তমানকে দেখা নয়। তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য পুরোনো মুখকেও দেখা।
সব মুখের নাম আমরা জানি না। সব গল্পের শেষও জানি না। তবু তারা আমাদের মধ্যে থেকে যায়। আর কোনো এক সন্ধ্যায়, যখন আলো ধীরে ধীরে নিভে আসে, যখন ঘরে আর কেউ কথা বলে না, তখন তাদের একজন আবার ফিরে আসে। সে আমাদের পাশে বসে। কিছু বলে না। শুধু অপেক্ষা করে। আমরাও চুপ করে থাকি। কারণ কিছু স্মৃতির কোনো ভাষা নেই।তাদের শুধু পাশে বসে থাকতে হয়।
মিরচা কার্তারেরেস্কুর নস্টালজিয়া শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে লেখা বই নয়। এটি এমন এক শৈশবের কাছে নিয়ে যায়, যেখানে স্বপ্ন, প্রেম ও কল্পনার পাশাপাশি আছে ভয়, একাকিত্ব এবং ইতিহাসের ক্ষত।
রোমানীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এই বইটি ১৯৮৯ সালে ‘দ্য ড্রিম’ নামে প্রথম প্রকাশিত হয়। তখন নিকোলায়ে চাউশেস্কুর শাসনের শেষ সময়। প্রথম সংস্করণ ছিল সংক্ষিপ্ত ও সেন্সর করা। পরে ১৯৯২ সালে ফরাসি এবং ১৯৯৩ সালে পূর্ণাঙ্গ রোমানীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। জুলিয়ান সেমিলিয়ানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে; পরে বইটি পেঙ্গুইন মডার্ন ক্লাসিকস-এও জায়গা পায়।
নস্টালজিয়া পাঁচটি পরস্পর-যুক্ত গল্পের সমন্বয়ে তৈরি। শুরুতে আছে ‘দ্য রুলেট প্লেয়ার’, যেখানে এক ব্যক্তি রুশ রুলেটের মাধ্যমে ভাগ্য ও মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ করে। মাঝখানে ‘মেন্টার্ডি’, ‘দ্য টুইনস’ ও ‘আরইএম’—যেখানে শৈশব, কৈশোর, প্রেম, যৌনজাগরণ, স্বপ্ন ও পরিচয়ের সংকট একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। শেষে ‘দ্য আর্কিটেক্ট’-এ এক ব্যক্তি দামি ডাসিয়া গাড়ির প্রতি অস্বাভাবিক আসক্ত হয়ে পড়ে। গল্পটি ভোগবাদ ও মানুষের অন্ধ আসক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।
বইটিতে ‘টেরাটোলজি’—অস্বাভাবিক জীব ও বিকৃতির ধারণা—গুরুত্বপূর্ণ। এসব অদ্ভুত শিশু যেন চাউশেস্কুর অন্ধকার সময়ের প্রতিচ্ছবি। ১৯৯০ সালের শীতে রোমানিয়ার অনাথ আশ্রমে দেখা পরিত্যক্ত শিশুদের বাস্তবতাও বইটির পেছনে এক গভীর ঐতিহাসিক ছায়া তৈরি করে।
তাই নস্টালজিয়া নামটিও এক ধরনের বিদ্রূপ। যে শৈশব ভয় ও ক্ষতে ভরা, তার কাছে কি ফিরে যাওয়া যায়? মিরচা কার্তারেরেস্কুর উত্তর যেন—ফিরে যাওয়া যায় না, কিন্তু সেই অতীত আমাদের ভেতর থেকে কখনো পুরোপুরি চলে যায় না।

পরিচিতি
মিরচা কার্তারেরেস্কু রোমানিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন লেখক। ১৯৫৬ সালের ১ জুন বুখারেস্টে তার জন্ম। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সাহিত্যসমালোচনায় তিনি সমানভাবে পরিচিত। বুখারেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও পরে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর লেখা ২৫টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবন শুরু করলেও পরে কথাসাহিত্যে বেশি মন দেন। তার উল্লেখযোগ্য বই নস্টালজিয়া। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য ড্রিম’ নামে প্রকাশিত বইটি পরে পূর্ণাঙ্গভাবে ‘নস্টালজিয়া’ নামে বের হয়। শৈশব, স্মৃতি, স্বপ্ন, শরীর এবং চাউশেস্কুর সময়ের অন্ধকার এই বইয়ের প্রধান বিষয়।
তার আরেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্লাইন্ডিং—তিন খণ্ডের এক বিশাল উপন্যাস: ‘দ্য লেফট উইং, দ্য বডি ও দ্য রাইট উইং’। ২০১৫ সালে প্রকাশিত সোলেনয়েড কার্তারেরেস্কুর সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস।
কার্তারেরেস্কু পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিলেনিৎসা পুরস্কার (২০১১), অস্ট্রিয়ান স্টেট প্রাইজ ফর ইউরোপিয়ান লিটারেচার (২০১৫), থমাস মান প্রাইজ ও ফোরমেন্তর প্রাইজ (২০১৮), এফআইএল প্রাইজ (২০২২), লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস বুক প্রাইজ (২০২৩) এবং ডাবলিন লিটারারি অ্যাওয়ার্ড (২০২৪)।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









