একদিকে বাল্যবিবাহ, অন্যদিকে মাদকের ছোবল—কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যতের জন্য দুটিই বড় হুমকি। এই দুই সামাজিক ব্যাধি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক ছাদের নিচে জড়ো হলেন পাঁচ শতাধিক অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সমাবেশ থেকে সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর অভিভাবকদের আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মফিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোকাররম বিল্যাহ শাহাদাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। বক্তব্য দেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এস এম মুজাহিদুল ইসলাম, শিক্ষক কামরুজ্জামান, অভিভাবক মো. ফাহিম উদ্দিন ও প্রবাসী কামরুল ইসলাম নুরসহ অন্যরা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এবং কী করে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অপরিহার্য। সন্তানরা কোথায় যায়, কী করে সর্বোপরি তাদের চলাফেরার দিকে অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখতে হবে।”
মাদক প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, “সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণে মাদক প্রতিরোধ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্ব নিতে হবে।”
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও সংকুচিত করে। অন্যদিকে মাদক কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এ দুটি সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
তারা আরও বলেন, সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে, বন্ধু ও চলাফেরা সম্পর্কে জানতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত শিক্ষক বা প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে শুরু হওয়া সমাবেশটি বিভিন্ন আলোচনা ও সচেতনতামূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









