সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্ভোগের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে রোগী নেওয়া থেকে শুরু করে ভর্তি, ওয়ার্ডে স্থানান্তর, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নানা জটিলতায় পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ, সিলেট ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়ন মালিনীছড়ার যৌথ উদ্যোগে মিছিলটি বের হয়। নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।
জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের সভাপতি কাপ্তান মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদসহ আয়োজক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রবেশের পর থেকেই বিভিন্ন ধাপে রোগী ও স্বজনদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে জরুরি বিভাগে নেওয়া, নিবন্ধন ও ভর্তি করানো থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে স্থানান্তর পর্যন্ত নানা জটিলতা রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় অনেককে।
রোগী পরিবহনে পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকা এবং লিফটের সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের ভাষ্য, অবকাঠামোগত এসব সীমাবদ্ধতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা যুক্ত হয়ে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে সেবা পাওয়ার জন্য হয়রানির শিকার হতে হবে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি বিভাগে সেবার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওয়ার্ডে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিক্ষোভ থেকে হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, রোগী ও স্বজনদের হয়রানি নিরসন, পর্যাপ্ত ট্রলি ও লিফটের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনও মানুষের আস্থার জায়গা। তাই চিকিৎসকদের সেবার পাশাপাশি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
সমাবেশে সিলেটে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বাধা, চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হকারদের পুনর্বাসন এবং নগরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









