বেলুন উড়িয়ে, কেক কাটা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ৬২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বেলুন উড়িয়ে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এহিয়াতুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী কাউছার উদ্দিন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মীর হাসমত আলী,মোহাম্মদ নুরুল হুদা, ইউসিডি কর্মকর্তা কে এম সুজাউদ্দিন রাশেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.মাহবুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী কাউছার উদ্দিন বলেন, বিশেষায়িত শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় একাডেমিক উপকরণ ও প্রশিক্ষণের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ইশারা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও সরবরাহ করা হলেও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ইশারা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা উপকরণের ক্ষেত্রে এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে। দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করতে ইশারা ভাষার উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা আমাদের কাছে ফুলের মতো। তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আলাদা আলাদা প্রতিভা রয়েছে। কেউ হয়তো ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ অন্য কোনো বিষয়ে পারদর্শী। শিক্ষকরা যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সেই প্রতিভা খুঁজে বের করে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করেন।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন বলেন, “আমাদের মূল পরিচয় আমরা সবাই মানুষ। মানুষের নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মানুষকে কোনো না কোনো বিশেষ গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেই গুণের চর্চা করতে পারলে সীমাবদ্ধতাকে জয় করে মানুষ তার স্বপ্ন ও সাহসের জায়গায় পৌঁছাতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, সারা পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যারা নিজেদের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফরিদপুর সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একদিন আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে পৃথিবী জয় করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়। আনন্দঘন পরিবেশে ৬২তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









