ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার এক দিন পরও সোমবার ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্যনিকেতন এলাকায় রোববার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সরকারি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় সেখানে ২০ থেকে ৪০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেছেন, ভবনের বেসমেন্টে জমে থাকা পানি এবং চলমান সংস্কারকাজ ভবন ধসের কারণ হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ভবনের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সত্যনিকেতন এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে। রবিবার ছুটির দিন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের কক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবন ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ‘বাঁচান, বাঁচান’ বলে চিৎকার শোনা যায়।
সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবনের প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন মূলত বেসমেন্টের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে লোহার গ্রিল ও ধাতব কাঠামো কেটে জীবিতদের সন্ধান করছেন।
এদিকে ভবনটির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সম্প্রতি সেখানে কোনো খনন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে পানি ঢুকে ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবন ধসের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









