নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোসা. মরিয়ম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। নিহতের ভাই মো. রাব্বি (২০) বাদী হয়ে এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, নিহতের স্বামী ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা নিজ ঘরে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শম্ভুপুরা এলাকায় ইকবাল হোসেনসহ ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে প্রবেশ করে মাদক সেবন শুরু করেন। মাদকাসক্ত স্বামীর এসব বিষয়ে জোড়ালো প্রতিবাদ করলে ইকবাল তার সহযোগীদের নিয়ে স্ত্রী মরিয়মকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও হয়, তারা পিস্তল দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল দিযে আঘাত করলে একপর্যায়ে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যরা বাড়িতে থাকলে কোন প্রকার বাধা প্রদান করেননি।
আরমানের দেওয়া একটি ট্যাবলেট ইকবাল ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মকে জোর করে খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি অন্যদের সঙ্গে মরিয়মকে মৃত ভেবে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে মরিয়মকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই রাব্বি এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগে হত্যা ও মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. বারিক জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









