গাজীপুরের কালীগঞ্জে অপহরণের প্রায় এক সপ্তাহ পর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঢাকার পূর্বাচল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি জাহিদ হাসান রাজকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পূর্বাচল থেকে সেই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
গ্রেপ্তার জাহিদ হাসানের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পানজোড়া গ্রামে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট সকালে নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওইদিন বিদ্যালয়ে পরীক্ষা থাকায় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরী। পরীক্ষা শেষে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পরিচিতজনদের কাছে খোঁজ নেন। পরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অনুসন্ধান।
কিশোরীর মা মামলার বাদী। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসান রাজ নিয়মিত তাদের বাড়িতে গিয়ে কিশোরীকে প্রাইভেট পড়াতেন।
পরিবারের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের পাকা সড়কে পৌঁছানোর পর জাহিদ হাসান রাজসহ কয়েকজন কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
মেয়ের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা জাহিদ হাসান রাজের বাড়িতে যান। সেখানে কিশোরীর বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ হাসান রাজ তাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানেন বলে জানান-এমন তথ্য মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কিশোরী কোথায় আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাদীর। বরং তাকে ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
কিশোরীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা মারপিটে উদ্যত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোনো দরবার বা সালিশ করলে কিশোরীর জান-মালের ক্ষতি এবং পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার দিন রাতেই কিশোরীর মা কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে জাহিদ হাসান রাজকে প্রধান করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকেও আসামি করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অপহরণ মামলা রুজু করে পুলিশ।
মামলা হওয়ার পর থেকেই কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রবিবার দিবাগত রাতে পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখান থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসান রাজকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব কুমার বাইন বলেন, ‘‘মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একপর্যায়ে পূর্বাচল এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং একই অভিযানে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’’
উদ্ধার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কিশোরী উদ্ধার এবং প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের পর মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ বাদীকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ ধরনের আপসের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, ‘‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হওয়ার পর থানায় কিংবা অন্য কোথাও বসে আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টির সিদ্ধান্ত আদালতেই হবে।’’
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার জাহিদ হাসান রাজকে সোমবার সকালে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ বলছে, কিশোরীকে কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









