গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি কারখানায় ৬১৩ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে এ ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে। চাকরি হারানোর খবর পেয়ে সকালে কারখানার ফটকে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে কান্না ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা সংবলিত নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে লে-অফে থাকা শ্রমিকেরা সেখানে নিজেদের নাম দেখতে পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়া কেয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করে অতিরিক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
৬ জুন থেকে ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কেয়া গ্রুপের কারখানাগুলো দফায় দফায় লে-অফের আওতায় যায়। কয়েক দফা লে-অফের মেয়াদ বাড়ানোর পর এবার স্থায়ীভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে। ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন করে জনবল নিয়োগের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া যেসব শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি বহাল রয়েছে, তারা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ সুবিধা পাবেন। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতাও চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চাকরি হারানো শ্রমিকদের একজন সুইং অপারেটর স্বপ্না বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় কাজ করেছি। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই চিন্তার বিষয়।’
একই সেকশনের অপারেটর নজরুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর ধরে কারখানাটিতে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন। চাকরি চলে যাওয়ায় এখন নিরুপায়। নতুন চাকরি না পেলে অটোরিকশা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে।’
এদিকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পর কারখানা এলাকায় উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল (শিল্প পুলিশ-২)-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে কারখানা এলাকায় শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









