শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা ও ঝরে পড়া রোধে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানো নয়; বরং মানুষকে পড়তে, লিখতে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম করে তোলা। যারা এখনো সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে, তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেক অভিভাবককে বারবার আহ্বান জানানো হলেও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে তাদের উপস্থিতি কম থাকে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার সঙ্গে মাদকাসক্তি প্রতিরোধের বিষয়টি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং লেখাপড়ার বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং তাদের শিক্ষাজীবন ঠিকমতো চলছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলালসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









