নারীর ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশ, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দীঘিনালা ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট (নারী)-২০২৬।
জমজমাট ফাইনালে বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদ একাদশকে ৫-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ একাদশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ এবং দীঘিনালা জোনের জোন উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রূশাদ, পিএসসি। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন ও শান্তিপ্রিয় চাকমাসহ দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্টে মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাবুছড়া মহিলা একাদশ ও বোয়ালখালী মহিলা একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে বোয়ালখালী মহিলা একাদশকে ৫-০ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাবুছড়া মহিলা একাদশ।
আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ১৩ আগস্ট সম্প্রীতি একাদশ ও ঐক্য একাদশ, ২০ আগস্ট দীঘিনালা উপজেলা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা এবং ২৩ আগস্ট দীঘিনালা উপজেলা ও লংগদু উপজেলা পরস্পরের মুখোমুখি হবে।
দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন পিএসসি বলেন, দীঘিনালা উপজেলার মানুষ খেলাধুলা দেখতে ও খেলতে পছন্দ করেন। আমরা চাই, দীঘিনালা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের একটি উদাহরণ হয়ে থাকুক। এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো নারী খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। সুপর্ণা চাকমার মতো আরও প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলবে এবং দীঘিনালার জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলেন, পাহাড়ি জনপদে তরুণদের জন্য নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অবসর সময় ইতিবাচক কাজে ব্যয় হবে। বিশেষ করে মাদকের সহজলভ্যতা ও মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের দূরে রাখতে মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম মাঠমুখী হবে এবং মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









