জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “বিএনপি যদি ভোটের নেগোসিয়েশনের জন্য খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার চিন্তাভাবনা করে তাহলে হিতে বিপরীত হবে। এক্ষেত্রে কোনো সংকট তৈরি হলে সকল দলের উপর দিয়েই যাবে এবং বিএনপি যেহেতু ক্ষমতায় সংকটের অগ্রভাগ তাদেরকেই মোকাবেলা করতে হবে। বিএনপি ও বিচারবিভাগ যদি এই বিষয়গুলোতে শাস্তি নিশ্চিত না করে তাহলে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে আমাদের আবারো রাজপথে নামতে হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনসিপি পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমন্বয় সভায় আজমেরী হক বাঁধনকে সরকারিভাবে আইনগত সহায়তার প্রদানের পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে এসব ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে। ২০২৪ এ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি ক্লোজড চ্যাপ্টার তাদের বাংলাদেশে পতন হয়েছে, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে। বিএনপিকে আলাদাভাবে ট্রিট করা হলেও বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে আগ্রহী নই আমরা তাদের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। বিগত ছয় মাসে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমনটা প্রক্রিয়া চলতে থাকলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় স্থায়ী হতে পারবেনা।
তিনি অোরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানির যে জাতীয় সংকট চলছে আমরা তাতে বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। আবার কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলছেন কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে আইনগত ভাবে তা প্রতিহত করা হবে। এ অরাজকতা তাদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অযোগ্যতাকে বড় বড় পদে পদায়নের জন্য তারা সৃষ্টি করছে। নিজেরা অরাজকতা তৈরি করে বিরোধী দলের উপরে দায় চাপিয়ে তাদের দমন করার যে রাজনীতি করা হচ্ছে তা এই বাংলাদেশে আর চলবে না। জনগণের এই দুর্বিষহ বিষয়গুলো নিয়ে লুটপাটের রাজনীতি করা হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ ভাবে তা প্রতিহত করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, কর্মশালা সংক্রান্ত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, বক্তব্য রাখেন যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মঞ্জু প্রমুখ। পরে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার মাধ্যমে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









