সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি খাবার হোটেল ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চরিয়া কান্দিপাড়া সামাজিক উন্নয়ন ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসু, তার ছোট ভাই জামায়াত নেতা আলী হাসান এবং আওয়ামী কর্মী আহমদ আলী দীর্ঘ দিন ধরে সিআরবিসি এলাকার দই-মিষ্টি ও পরোটা ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম ফকিরের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। মহাসড়ক সংলগ্ন দোকানটি তাদের মালিকানাধীন জমিতে না হওয়ায় আব্দুল হাকিম ফকির চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এর জেরে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ওয়ার্ড বিএনপির নেতা হাসু, জামায়াত নেতা আলী হাসান ও আওয়ামী নেতা আহমদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর ‘শামীম হোটেল’-এ হামলা চালায়। পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেকু মেশিন ও লাঠিসোটা দিয়ে হোটেলটি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা হোটেল মালিকের ছেলেসহ পরিবারের লোকজনকে বেধড়ক মারধর করে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিমের ছেলে শামীম হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে সলঙ্গা থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে গড়িমসি করছে।” তিনি দ্রুত চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সিআরবিসি এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন শামীম হোটেলে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেল মালিক আব্দুল হাকিম ফকির বাদী হয়ে ওই রাতেই ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









