অভাব-অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিএসসি ইন নার্সিং পড়ুয়া সপ্তপূর্ণা চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। তার পড়াশোনা চালিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে জোন কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সপ্তপূর্ণা চাকমা দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমিত চাকমার মেয়ে। চার বোনের মধ্যে সে সবার বড়। বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজে বিএসসি ইন নার্সিং বিষয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন তিনি।
পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সপ্তপূর্ণার উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার বাবার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে তার শিক্ষাজীবন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাশে দাঁড়ায় দীঘিনালা জোন।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে সপ্তপূর্ণা চাকমা বলেন, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীঘিনালা জোনের এই সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় সহায়তা। এতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
সপ্তপূর্ণার পরিবারও এ সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মেয়ের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলে তার ব্যক্তিগত স্বপ্নের পাশাপাশি সমাজও একজন সম্ভাবনাময় দক্ষ মানুষ থেকে বঞ্চিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সপ্তপূর্ণার মতো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ি জনপদে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









