‘সরকারের প্রতি অবিশ্বাস, যুদ্ধের মিথ্যা যুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার—সব মিলিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এখন আর সমাজের প্রান্তিক মানুষের বিশ্বাস নয়। এটি ক্ষমতার রাজনীতির একটি কার্যকর অস্ত্র।’ ইউটিউবের সার্চ বারে ‘৯/১১ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ লিখলে যে পৃথিবীটি খুলে যায়, সেখানে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা এখনো একটি অসমাপ্ত ঘটনা। ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে, নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং শেষও হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহের কোনো শেষ নেই।
কেউ দাবি করে, সিআইএ সব জানত। কেউ বলে, ডিপ স্টেট হামলাটি ঘটতে দিয়েছিল। কেউ ইলুমিনাতির কথা বলে। আবার কেউ প্রশ্ন তোলে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি টাওয়ার কি বিমান আঘাতে ধসে পড়েছিল, নাকি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে ভিডিওগুলো লাখো মানুষ দেখে। জনপ্রিয় ভাষ্যকারেরা এসব নিয়ে আলোচনা করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কখনো সরাসরি, কখনো ইঙ্গিতে একই সন্দেহকে সামনে আনেন। একসময় ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে আমেরিকান সমাজের প্রান্তিক মানুষের অদ্ভুত বিশ্বাস হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই সময় নেই। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ভোটার সংগঠিত করে, রাজনৈতিক শত্রু তৈরি করে এবং রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য একটি সুবিধাজনক ব্যাখ্যা সরবরাহ করে।
এটি কোনো আকস্মিক পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্র যখন নিজেই অবিশ্বাসের কারণ হয়ে ওঠে। আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহের ইতিহাস দীর্ঘ। জন এফ. কেনেডি হত্যার পর থেকেই মানুষ প্রশ্ন করে এসেছে—সরকার যা বলছে, সেটিই কি পুরো সত্য? ৯/১১ সেই সন্দেহকে অন্য মাত্রা দেয়। কারণ হামলাটি ঘটেছিল সরাসরি সম্প্রচারের যুগে। মানুষ টেলিভিশনে বিমানকে ভবনে আঘাত করতে দেখেছে। একই দৃশ্য বারবার দেখেছে। ভয়, বিস্ময় এবং অনিশ্চয়তা একই সঙ্গে ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যাপক হুগো দ্রোশোঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের ক্ষমতাকেন্দ্রের ওপর এমন হামলা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
কিন্তু শুধু দৃশ্যমান ধ্বংসই সন্দেহ তৈরি করেনি। তার পরের ঘটনাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে। দুই বছর পর ইরাক আক্রমণের জন্য যে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কথা বলা হয়েছিল, পরে তার অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। সরকার যখন যুদ্ধের কারণ হিসেবে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে, তখন অবিশ্বাস কেবল একটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে থাকে না। তা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিই ছড়িয়ে পড়ে। দ্রোশোঁ বলেন, “মিথ্যা অবিশ্বাস তৈরি করে। আর অবিশ্বাসের সঙ্গে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে।”
এই সম্পর্কটি উপেক্ষা করা যায় না। কারণ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সব সময় শূন্য থেকে জন্মায় না। অনেক সময় তা জন্ম নেয় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে—যুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় প্রতারণা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব এবং ক্ষমতাবানদের শাস্তিহীনতা থেকে। সমস্যা শুরু হয় যখন বাস্তব ক্ষোভের উত্তর হিসেবে মিথ্যা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

ইন্টারনেটের উত্থান, সন্দেহের বাজার
৯/১১-এর সময় টেলিভিশন সংবাদ এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতি একসঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছিল। মানুষ সরাসরি সম্প্রচারে ঘটনা দেখছিল, আবার অনলাইনে তার ব্যাখ্যাও খুঁজছিল। এই পরিস্থিতি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্য একটি নতুন বাজার তৈরি করে।গবেষক ডেভিড রবার্টসন বলেন, হামলার দৃশ্য মানুষকে প্রমাণের কথিত ফাঁকফোকর খুঁজতে উৎসাহিত করেছিল। ইন্টারনেট সেই সন্দেহগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ দেয়। ইউটিউব চালু হওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। ‘লুস চেইঞ্ ‘ নামের চলচ্চিত্রে দাবি করা হয়, মার্কিন সরকারের কিছু অংশ হামলাটি পরিকল্পনা করেছিল অথবা ঘটতে দিয়েছিল। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের তত্ত্বও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার: মানুষের প্রশ্ন করা এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাস করা এক জিনিস নয়।
রাষ্ট্রের বক্তব্য যাচাই করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু যখন কোনো প্রমাণ ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট গল্পকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন অনুসন্ধান থেমে যায়। সন্দেহ নিজেই প্রমাণে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পার্থক্যটি আরও অস্পষ্ট করেছে। একটি মিথ্যা ভিডিও কয়েক ঘণ্টায় লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বারবার দেখা, শেয়ার করা এবং পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে একটি দাবির সত্যতা যাচাই করার বদলে তার জনপ্রিয়তাই তার বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।
২০১৬: ষড়যন্ত্রতত্ত্বের রাজনৈতিক ব্যবহার
দ্রোশোঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটে তখন, যখন রাজনীতিকেরা ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সেই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ট্রাম্প এর আগেই দাবি করেছিলেন, বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেননি। এই মিথ্যা ‘বার্থার’ তত্ত্ব ছিল শুধু একজন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণের কৌশল নয়; এটি ছিল একটি রাজনৈতিক পরিচয় তৈরির পদ্ধতি। ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে রাষ্ট্র, সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ‘ডিপ স্টেট’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কিউঅ্যাননের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বক্তব্যকে তিনি কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো পরোক্ষভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। এখানে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ভূমিকা বদলে যায়। এটি আর কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়। এটি ভোটারদের সংগঠিত করার ভাষা হয়ে ওঠে। যে মানুষ রাজনীতিতে আগে সক্রিয় ছিল না, তাকে বোঝানো যায় যে তার সমস্যার পেছনে একটি গোপন শত্রু রয়েছে। বেকারত্ব, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সামাজিক বৈষম্যের জটিল কারণগুলো তখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। সবকিছুর একটি সহজ উত্তর তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই রাজনৈতিক কৌশলকে আরও কার্যকর করে তোলে। দ্রোশোঁর ভাষায়, রাজনীতিকেরা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করেন, ফলে সেগুলো বেশি দৃশ্যমান হয়। মানুষ তখন ভাবে, এত ক্ষমতাবান একজন ব্যক্তি যখন কথাটি বলছেন, নিশ্চয়ই এর মধ্যে সত্যের কিছু অংশ আছে। এভাবেই মিথ্যা একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে।
৬ জানুয়ারি: অনলাইন গল্পের বাস্তব পরিণতি
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির কোনো প্রমাণ না থাকলেও ট্রাম্পের সমর্থকেরা দাবি করতে থাকেন, নির্বাচন চুরি হয়েছে। এই দাবির রাজনৈতিক পরিণতি দেখা যায় ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি।
কংগ্রেস যখন জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় ছিল, তখন ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি জনতা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। তাদের মধ্যে কিউঅ্যাননের প্রতীক ও স্লোগান দেখা যায়। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বাস্তব রাজনৈতিক সহিংসতায় পরিণত হয়েছিল। মিথ্যা শুধু মানুষের বিশ্বাস বদলায়নি; তা মানুষকে কাজ করতেও প্ররোচিত করেছে। দ্রোশোঁ সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তখনই বিশেষ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যখন তা ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমর্থন পায়। এই কথার গুরুত্ব ৯/১১-এর বর্তমান আলোচনায় আরও স্পষ্ট।
ট্রাম্পের ফিরে আসা এবং ৯/১১-এর নতুন গল্প
পঁচিশ বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ৯/১১-এর স্মৃতিকে নিজের রাজনৈতিক গল্পের অংশ করছেন। সাম্প্রতিক এক স্মরণসভায় তিনি দাবি করেন, গ্রাউন্ড জিরোতে উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে গিয়ে দমকলকর্মীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনায় তিনি ছিলেন ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী। কিন্তু ৯/১১ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে অতিরঞ্জন ও মিথ্যা দাবির ইতিহাস রয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি বলেছিলেন, নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে হাজার হাজার মানুষ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধসে পড়ার সময় উল্লাস করছিল। এই দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে তিনি একটি মিথ্যা ভিডিও শেয়ার করে কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ৯/১১-এর বার্ষিকীতে নাচার অভিযোগ করেছিলেন। ভিডিওটি অন্য একটি দিনের অনুষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ৯/১১ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকারীরাও রয়েছেন। সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন, পেন্টাগনে আদৌ কোনো বিমান আঘাত করেছিল কি না। পরে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর বক্তব্য ভুল ছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার ৯/১১-কে ‘ইনসাইড জব’ হিসেবে বর্ণনা করা ভিডিও প্রচার করেছেন। অ্যালেক্স জোন্স, যিনি ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর প্রশংসা পেয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে ৯/১১-এর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ তত্ত্ব প্রচার করে আসছেন। টাকার কার্লসনও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার ধসের সরকারি ব্যাখ্যা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন।
ইসরায়েলকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
সাম্প্রতিক সময়ে কার্লসনের বক্তব্যের একটি নতুন দিক দেখা যাচ্ছে। এবার তিনি ইসরায়েলকে ৯/১১-এর সঙ্গে যুক্ত করে করা অভিযোগগুলো সামনে আনছেন। মার্চ মাসে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল হামলার আগে থেকেই কিছু জানত এবং সেই তথ্য গোপন করে থাকতে পারে। এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। কিন্তু কার্লসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য শোনা গেলে তা আর একটি ছোট অনলাইন গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
এখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভূমিকা রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইসরায়েলি সরকারের নীতি এবং মার্কিন বৈদেশিক নীতির সমালোচনা এখন আমেরিকান রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তব ক্ষোভের সঙ্গে ৯/১১-এর প্রমাণহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে যুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু দুটি বিষয়কে আলাদা রাখা জরুরি।
ইসরায়েলি সরকারের নীতির সমালোচনা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির সমালোচনা করা বৈধ রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই একটি রাষ্ট্র বা জাতিকে ৯/১১-এর জন্য দায়ী করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এই পার্থক্য মুছে দেয়। মানুষের প্রকৃত ক্ষোভ তখন একটি মিথ্যা গল্পের দিকে পরিচালিত হয়। গাজার নিহত মানুষ, যুদ্ধের রাজনীতি, মার্কিন সরকারের নীতি—এসব বাস্তব প্রশ্নের পরিবর্তে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে একটি অপ্রমাণিত অভিযোগ। এভাবে ক্ষমতার রাজনীতি মানুষের ক্ষোভকে ব্যবহার করে, কিন্তু তার প্রকৃত কারণের মুখোমুখি হয় না।
যখন প্রান্তিক মানুষের বিশ্বাস ক্ষমতাবানদের ভাষা হয়ে ওঠে। ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর রাজনৈতিক অভিযোজন ক্ষমতা। এটি সময়ের সঙ্গে বিষয় বদলায়, শত্রু বদলায়, ভাষা বদলায়। কিন্তু তার মূল কাজ একই থাকে: জটিল বাস্তবতার জন্য একটি সহজ শত্রু তৈরি করা। রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের অবিশ্বাসের বাস্তব কারণ থাকতে পারে। সরকার যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে। সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান জনগণের আস্থা হারাতে পারে।
কিন্তু সেই বাস্তব ব্যর্থতার জায়গায় মিথ্যা ব্যাখ্যা বসালে মানুষ সত্যের কাছাকাছি যায় না। বরং আরও দূরে সরে যায়।দ্রোশোঁ বলেন, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এখন বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ, কারণ এর প্রচারকারীরা আর কেবল রাজনৈতিক প্রান্তে নেই। কিছু ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী মানুষ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন। এটাই ৯/১১-এর পরবর্তী আমেরিকার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর একটি।
একসময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্দেহ ছিল প্রান্তিক মানুষের প্রতিবাদ। এখন সেই সন্দেহকে রাষ্ট্রেরই কিছু ক্ষমতাবান প্রতিনিধি ব্যবহার করছেন। ফলে প্রশ্নটি আর শুধু ৯/১১-এর প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো—কোনো সমাজে মানুষ যখন সরকারের সত্যকে বিশ্বাস করে না, তখন সেই অবিশ্বাস কে ব্যবহার করছে? কার স্বার্থে? এবং মিথ্যার রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত কে পরিশোধ করছে?
সূত্র: আল জাজিরা। কীলান ম্যাগি, সাংবাদিক, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও লেবাননের বৈরুত—দুই শহরকে কেন্দ্র করে কাজ করেন। এর আগে তিনি দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, দ্য টাইমস ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট- এ নিয়মিত প্রতিবেদন লিখেন। ২০২৬ সালে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের আমলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গ্যাবি রাডো অ্যাওয়ার্ড পান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









