ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর গাজীপুরেও আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। মহানগরীর শ্মশানঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, সিভিল সার্জন মামুনুর রশিদ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়া।
এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্কাউট, বিএনসিসি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় মহানগরীর শ্মশান মন্দির, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড় এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ অংশ নেন। তারা রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চালানো হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার আনাচে-কানাচে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, শুধু এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই হবে না, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। জিএমপির সব ইউনিট এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ড ও আটটি জোনে কার্যক্রম চলছে। এডিস মশা কোথায় ও কীভাবে জন্মায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংসে স্প্রে ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









