কুমিল্লার বাঙ্গরা এলাকায় নিজ ঘরে ঢুকে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর পেন্নাই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় আনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তাঁর হাতের রগ কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের ভাই জালাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আনোয়ারকে এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তারা। এ সময় ফিরোজ মেম্বারের ছেলে আনোয়ার, একই এলাকার পিন্টু, হাসান, ও জালাল তাঁর ভাইয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের স্ত্রীও একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় হামলাকারীরা তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে এলাকায় তাঁর ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব ছিল । এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার
একক আধিপত্যও ছিলো আনোয়ারের দখলে।
এদিকে, ২০২৩ সালে ড্রেজারের অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলার করেন আনোয়ার ও তার বাহিনী। তখন তিনি রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
৫ আগস্ট ২০২৪-সংগঠিত হওয়ার পর আনোয়ারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। আওয়ামী সরকার পতনের পর আনোয়ার মেম্বার আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। নিহতের মৃত দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









