কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি থাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে পানি থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে ১৩ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার প্রবণতা শুরু হলেও দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকা চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুর্গত মানুষের সহায়তায় দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাল ও শুকনা খাবারের সাড়ে ৭ শ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এসব ত্রাণ বিতরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ এবং উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দু দফা সাড়ে পাঁচশ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
তবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও বিতরণ করা ত্রাণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, অল্প পরিমাণ ত্রাণে এত বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা পায়নি।
চিলমারী ইউনিয়নে পানিবন্দি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘‘পানি একটু কমেছে, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। ঘরবাড়িতে পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না ও চলাফেরা করতে পারছি না। এত মানুষ পানিবন্দি, অথচ ত্রাণ এসেছে খুবই অল্প। আরও বেশি মানুষের মধ্যে চাল, শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া দরকার।’’
স্থানীয়দের দাবি, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। পানি কমলেও দুর্গত মানুষের মুখে তাই এখনো স্বস্তির হাসি নেই। নদীর পানি নামার অপেক্ষার পাশাপাশি তাদের অপেক্ষা পর্যাপ্ত সহায়তার জন্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘‘গত রবিবার ২৪০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেসব এলাকায় মানুষের প্রয়োজন বেশি, সেসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’’
স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘‘পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সোমবার চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাল ও শুকনা খাবারের সাড়ে ৭৫০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তা যথেষ্ট নয়। আরও বেশি মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









