কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে (বিএটিবি) দীর্ঘকাল ধরে কর্মরত ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের ব্যানারে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান আরিফুল ইসলাম, সামিউল ইসলাম, মোহাম্মদ সুজন ও গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিপুল সংখ্যক ভুক্তভোগী শ্রমিক।
মানববন্ধন শেষে শ্রমিক নেতারা কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের নিকট তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে ঠিকাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে বিএটিবি’র অধীনে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শ্রমিকদের পক্ষে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়াসহ চট্টগ্রাম, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া উত্তর ও দক্ষিণ, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, আলমডাঙ্গা, মেহেরপুর, রংপুর, মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা অঞ্চলের প্রায় ৩৭০ জন ফিল্ড টেকনিশিয়ান, অফিস পিয়ন, স্টোর কিপার এবং ব্যাচ লিফ অপারেটর বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিএটিবি-তে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করার পরও তারা কোনো স্থায়ী নিয়োগ বা ন্যায্য অধিকার পাননি।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস এম লজিস্টিকস লিমিটেড, ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএসএসএল) এবং এম এস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ শ্রম আইন লঙ্ঘন করে তাদের নিয়োগ ও ছাঁটাই করছে। এমনকি বাংলাদেশ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং শ্রম আইন উপেক্ষা করে তাদের অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিএটিবি-র তামাক উৎপাদন ও ক্রয় প্রক্রিয়ার মূল অংশে তারা বীজতলা থেকে শুরু করে তামাক ক্রয়, পর্যবেক্ষণ, এবং ডাটা আপডেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। এই কাজগুলো প্রকৃতিগতভাবে স্থায়ী এবং প্রতিষ্ঠানের মূল ও আবশ্যকীয় কাজের আওতাভুক্ত। অথচ তাদের কোনো রকম স্থায়ী সুবিধা ছাড়াই 'ফিক্সড টার্ম কন্ট্রাক্ট'-এর আওতায় কাজ করানো হচ্ছে।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সম্প্রতি বিএটিবি কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য দাবি আমলে না নিয়ে উল্টো ২০ জন কর্মীকে দেশের দূরবর্তী স্থানে বদলি করেছে এবং কুষ্টিয়া মিরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রংপুর অঞ্চলে ৬ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এসব মামলা ও বদলির মাধ্যমে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। ঠিকাদারি প্রথা দাসত্বের শামিল। আমরা আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা হয়রানি মানব না। আমাদের এক দফা দাবি—অবিলম্বে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে বিএটিবি’র অধীনে আমাদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।
স্মারকলিপিতে শ্রমিকদের চাকরিতে নিয়মিতকরণ, ছাঁটাই বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, এবং আইনত প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার আলটিমেটাম দেন শ্রমিক নেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









