চলনবিলের অপার সৌন্দর্য আর নদী-বিলের শান্ত পরিবেশকে কাছ থেকে উপভোগ করতে একদিনের ব্যতিক্রমধর্মী নৌভ্রমণের আয়োজন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনার জেলার সকল প্রতিনিধি সকল সাড়ে দশটার সময় ভাঙ্গুরা উপজেলার পাটুল বাজারে একত্রিত হয়ে নৌকাযোগে এই ভ্রমণ শুরু করে ।নৌভ্রমণের আয়োজন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সবুজ।
যাত্রার শুরুতেই অংশগ্রহণকারীরা বিলাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছান ঐতিহ্যবাহী দিলপাশার রেলস্টেশনে। সেখানে সাময়িক বিরতি নিয়ে স্মৃতিবিজড়িত রেলস্টেশনকে ঘিরে ফটোসেশন ও আড্ডায় মেতে ওঠেন ভ্রমণসঙ্গীরা। পরে আবারও নৌযাত্রা শুরু হয়।
নৌকাটি চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি অতিক্রম করে উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ভাসমান রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যায়। পথিমধ্যে নৌকাতেই জুমার নামাজ আদায় করা হয়। একই সঙ্গে চলন বিলের মধ্যখানে নৌকার মধ্যে ব্যতিক্রমী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন সম্পন্ন হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের কাছে ভ্রমণকে আরও আনন্দঘন করে তোলে।

দিনব্যাপী এই নৌভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রতিনিধি সফিক ইসলাম, আটঘরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুস সাত্তার, বেড়া উপজেলা প্রতিনিধি ওসমান গনি, ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সবুজ, আরিফ খান জয় প্রতিদিনের কাগজ পাবনা জেলা প্রতিনিধি, দেশের পত্র পাবনা জেলা প্রতিনিধি ইমরান নাজির সহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
নৌভ্রমণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পাবনা জেলা প্রতিনিধি সফিক ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যে এমন একটি আয়োজন আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। চলনবিলের প্রকৃতি কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।
আটঘরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুস সাত্তার বলেন, চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এমন ভ্রমণ কর্মব্যস্ত জীবনে নতুন উদ্যম যোগায় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
বেড়া উপজেলা প্রতিনিধি ওসমান গনি বলেন, নৌকায় ভ্রমণ, প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ এবং সহকর্মীদের আন্তরিকতা দিনটিকে বিশেষ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন এই স্মৃতি মনে থাকবে।
আয়োজক ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক নুরুজ্জামান সবুজ বলেন, চলনবিল শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই নৌভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আয়োজনটি সফল হয়েছে।
স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিকও জানান, কর্মক্ষেত্রের বাইরে এমন মিলনমেলা সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, বিলাঞ্চলের জীবনচিত্র এবং সহকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে দিনব্যাপী এই নৌভ্রমণ সবার জন্য হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। সাংবাদিকদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন চলনবিলের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে আবিষ্কারের পাশাপাশি পেশাগত বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









