সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানের ডেগে সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীভাঙনের অভিযোগসংবলিত একটি উড়োচিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে লেখকের নাম উল্লেখ নেই। তবে নিজেকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চকগ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মাজারের ডেকচি ও দানবাক্সগুলো খোলার পর চিঠিটি পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সুরমা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বারহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চকগ্রামসংলগ্ন সুরমা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তাদের প্রভাব ও হুমকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চিঠিতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন জামায়াত নেতা আবুল হোসেন হাছনু, যুবদল নেতা মিফতা মেম্বার, বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদ ওরফে মড়াই, যুবদল নেতা রুবেল, আতা ও সুহেল, ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির কাজল এবং যুবদল নেতা জাকারিয়া ও আকাশ।
চিঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোকারি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









