পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে দ্বিতীয় দিনের মতো ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ভাঙচুর বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই কুলোনিয়া গ্রামে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাড়িটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাঙচুরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তারা ওই এলাকার বাসিন্দা না হলেও কলি হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে এসেছেন। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছেন। শুধু স্থানীয়রাই নয়, দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনার দিন শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাশের ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহ এড়াতে আসামিরা নিজেরাই শিশুটিকে খোঁজার কাজে অংশ নেয়। এমনকি তাকে উদ্ধারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা উপস্থিত ছিল। বর্তমানে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
শিশু কলি হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









