পিরোজপুরের নেছারাবাদে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে এক কন্যাশিশুসহ দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে ১২ বছর বয়সী কন্যাশিশুটির বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্পের জন্য সে ও তার কোলে থাকা ১৬ মাস বয়সী চাচাতো ভাই রক্ষা পেয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিন্না গ্রামের ১২ বছর বয়সী মিমি দুপুরে খাবার খেয়ে তার ১৬ মাস বয়সী চাচাতো ভাই আয়ানকে কোলে নিয়ে বাড়ির সামনে একটি দোকানের কাছে যায়। সেখানে বোরখা পরা এক নারীকে অসুস্থ ব্যক্তির মতো বসে থাকতে দেখে মিমি তার কাছে এগিয়ে যায়। মিমি উপজেলার রাজাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।
ভুক্তভোগী মিমির দাবি, ওই নারী তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি স্প্রে বের করে তার মুখে ছিটিয়ে দেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এক পুরুষের কাছে নিয়ে যান এবং একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে অটোরিকশায় করে মিমি ও আয়ানকে মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার এলাকায় নেওয়া হয় বলে শিশুটি পরিবারের কাছে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী মিমির জানান, সেখানে যাওয়ার পর তার চেতনা ফিরে আসে। এ সময় ওই পুরুষ তাকে ও তার কোলে থাকা শিশুটিকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান। পরে ওই ব্যক্তি কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগে মিমি কৌশলে আয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে সে তার খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
মিমির মা মরিয়ম বেগম জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার বোন ফোন করে মিমির অবস্থান জানতে চান। এরপর তিনি মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার বোন ফোন করে জানান, মিমি তার বাড়িতে এসেছে এবং তাকে কেউ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে।
বলদিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ এনামুল হক রতন বলেন, “এক নারী শিশুটিকে স্প্রে ছিটিয়ে অচেতন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে শিশুটি জানিয়েছে। পরে চেতনা ফিরে এলে সে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে দুই শিশুকেই পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত।”
তিনি আরও বলেন, সত্যিই যদি এ ধরনের কোনো চক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি ফেসবুকে জানতে পেরেছি। গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।”
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









