পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ২৬১টি ডাস্টবিন এখন অকেজো হয়ে পড়েছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় ডাস্টবিনের ভেতর-বাইরে জমছে আবর্জনা। কোথাও কোথাও ডাস্টবিন ঘিরে তৈরি হয়েছে ময়লার স্তূপ। ফলে একদিকে যেমন নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতাও বেড়েছে। এমনকি শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি প্রবহমান খালেও ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পের মাধ্যমে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১৫৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট ও ২৬১টি স্টেইনলেস স্টিল ওয়েস্টবিন স্থাপন করা হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ১৮ হাজার ৪১০ টাকা। আর ২৬১টি ডাস্টবিন স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৯ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ছিল মঠবাড়িয়া পৌরসভা।
সম্প্রতি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু ডাস্টবিনে দীর্ঘদিনের ময়লা জমে আছে। অনেক স্থানে ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে ময়লা বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও আবার ডাস্টবিনের আশপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ। ফলে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে যেমন দুর্ভোগ হচ্ছে, তেমনি দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও সেগুলো থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একটি ডাস্টবিনে ময়লা জমে গেলে তা দ্রুত অপসারণ না করায় অনেকেই বাধ্য হয়ে আশপাশে কিংবা রাস্তার পাশে ময়লা ফেলছেন। এতে ডাস্টবিন স্থাপনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।
পৌরবাসীর আরও অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ছোট আকারের ডাস্টবিনগুলো দৈনন্দিন বর্জ্যের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা পূর্ণ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার ডাস্টবিন স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন তারা।
শহরের একটি প্রবহমান খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খালটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, মঠবাড়িয়ায় ডাস্টবিন নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে একই ২৬১টি ডাস্টবিন সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়ার কথা উঠে এসেছিল। ওই সময়ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকা এবং খালে বর্জ্য ফেলার অভিযোগের কথা জানানো হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান হবে না। ডাস্টবিনের সংখ্যা, আকার ও অবস্থান নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিদিন বা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে খাল, রাস্তার পাশ ও খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে পৌরসভাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ময়লা পরিষ্কার ও ডাস্টবিনের বিষয়ে জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ডাস্টবিনগুলো কবে স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। কোনো ডাস্টবিন নষ্ট হয়ে থাকলে কিংবা সেখানে ময়লা জমে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। তবে জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় নিয়মিতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউর রাব্বি বলেন, সরকারি অর্থে স্থাপিত এসব ডাস্টবিনকে কার্যকর রাখতে দ্রুত নষ্ট ডাস্টবিন মেরামত বা প্রতিস্থাপন, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ও বড় আকারের ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









