ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন কালী বাড়ি থেকে কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমাসহ মূল্যবান অলংকার চুরি হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে রবিবার ভোর পৌনে ছয়টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
কষ্টি পাথরের কালি প্রতিমাসহ গায়ে থাকা বিভিন্ন প্রকার ৭/৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের ছোট ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ, মনসা মূর্তি, মহাদেবের লিঙ্গের সাথে পেচানো রূপার আনুমানিক ৮/১০ ভরি ওজনের একটি সাপও চুরি হয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরীয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনায় ওই মন্দিরের সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী (৪১) রবিবার দুপুরে ফরিপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
মন্দিরটি ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। ১৮ শতাংশ জমির উপর প্রাচীন এই মন্দিরটির পাকা কাঠামো নির্মান করা হয় ১৯০৩ সালে।
মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, যে প্রতিমাটি চুরি হয়েছে সেটি নিচে শ্বেতপাথারের শিবমূর্তির উপরে কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি। এর মধ্যে থেকে শ্বেতপাথরের শিবমূর্তি টি রেখে উপরের কালী প্রতিমাটি অজ্ঞাত চোর বা চোরেরো নিয়ে গেছে। তিনি বলেন প্রতিমাটির মোট ওজন ৪০ কেজি, এর মধ্যে চুরি যাওয়া কষ্টি পাথরের কালি প্রতিমাটি অন্তত ২০ কেজি ওজন হবে।
ওই মন্দিরের যে জায়গায় প্রতিমাটি সংরক্ষণ করা ছিল সেখানে ঢুকতে হলে মন্দির পূর্ব দিকের একটি কলাপসিবলের বেড়া যুক্ত কাঠের দরজা রয়েছে। সেখানে একটি তালা ভেঙ্গে দরজাটি খুলে পরে লোহার আরও একটি দরজা সার্টারও যুক্ত গেট যাতে চারটি তালা ছিল তা ভেঙ্গে কষ্টি পাথরের কালি প্রতিমা চুরি করা হয়।
মন্দিরের সেবায়েতের ভাতিজা কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরে সিসি ক্যামেরা অকোজো ছিল।
মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী বলেন, সকালে মন্দিরে পালি প্রতিমা না দেখে উক্ত মালামালগুলি খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে কালি মন্দিরের পাশেই পরিত্যক্ত ভবনের মধ্যে কালি মূর্তির সাথে থাকা মহাদেব এর অংশটুকু সহ তার সাথে কষ্টি পাথরের কালি মাতার পায়ের পাতার অংশটুকু পাই। কিন্তু অন্যান্য মালামালের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মন্দির কমিটির পক্ষ হতে রবিবার সকাল সকাল পৌনে ছয়টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল করা হলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে ফরিদপুরের পুলিশ শাহরীয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, কোতয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে আসেন। পরবর্তিতে ঘটনাস্থলে এসে উপাত্ত সংগ্রহ করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ক্রাইম সিন দলের সদস্যরা চুরির জায়াগায় সনাক্ত করে সীমানা রেখা নির্ধারণ করে দেন।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইতিমধ্য চোরচক্রকে সনাক্ত করা ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি দল মাঠে কাজ করা শুরু করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









