পাবনায় শিশু কামরুন্নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী, স্বজন এবং নিহত শিশুটির সহপাঠীরা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাবনা জেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কলি হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আদালত এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিষ্পাপ শিশু কলিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন পরিণতির শিকার হতে না হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার মোস্তফা কামাল (৫৫) কুলুনিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে। অপর আসামি ইয়াছিন আলী (২১) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলুনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি (১০) নিখোঁজ হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে একটি ঘরে নিয়ে যান। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
নিখোঁজের সাতদিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, কলি হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুটির সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “কলি হত্যার বিচার চাই”, “শিশু হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই” এবং “নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করুন”।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









