মাদক নির্মূল ও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ‘মাদক নির্মূল কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পুকে আহ্বায়ক এবং সোস-এর সভাপতি সেকেন্দার আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
রবিবার রাতে সৈয়দপুরের পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবে আয়োজিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। কমিটি গঠনের পর পরই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের মাদকের বিভিন্ন যায়গায় মাদক নির্মুল অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, এম আর আলম ঝন্টু, অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী, মনজুর আলম ও আশরাফুল হক লিপ্টন। দপ্তর ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন কুতুব উদ্দিন আলো। মিডিয়া সেলে রয়েছেন ইমরান হোসেন, আমির হোসেন, নওশাদ আনসারী, একরামুল হক ও আতিয়ার রহমান। অন্যদের সদস্য করা হয়েছে। কমিটিতে সৈয়দপুর পৌরসভার ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে সচেতন নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যারা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে চান তারাও চাইলে সদস্য হতে পারবেন বলে জানানো হয় ওই সভায়।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কয়েক দফা উঠান বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশঘ্রহণে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
রবিবারের সভায় সভাপতিত্ব করেন নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু। এতে এম আর আলম ঝন্টু, রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী, মনজুর আলমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য বক্তব্য দেন।
সভায় মাদক নির্মূলে এলাকাভিত্তিক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিতকরণ, সংশ্লিষ্টদের তালিকা প্রণয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলশ প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কারাগার থেকে ফেরত আসা মাদক মামলার আসামিদের ওপর সামাজিক পর্যবেক্ষণ, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকসেবীদের কাউন্সেলিং এবং মাদকের কুফল নিয়ে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মসজিদে নিয়মিত মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা সৃষ্টি, মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ বন্ধে উদ্যোগ এবং বহিরাগত মাদক সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। তাই দল-মত ও পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সৈয়দপুরের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের এই উদ্যোগ কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে মানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানও জোরদার হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









