পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ পথচারীরা। বড় বড় খানাখন্দে ভরা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে জরুরি রোগী পরিবহন প্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ উদ্যোগে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে মাঠে নেমেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতালমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানের গভীর গর্তে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে ভরাট করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী। এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। তার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীরাও অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটির দুই পাশে জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত রোগী, প্রসূতি এবং তাদের স্বজনরা এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হওয়া, দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির ঘটনা ঘটছে।
অ্যাম্বুলেন্সচালক আরমান বলেন, লতিফ টাওয়ার থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে স্বাভাবিকভাবে তিন মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। রোগী নিয়ে দ্রুত চলার সুযোগ নেই, কারণ একটু দ্রুত গেলেই তীব্র ঝাঁকুনি লাগে।
অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হতো। এখন স্বেচ্ছাসেবীরা গর্ত ভরাট করায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পাকা রাস্তা নির্মাণ জরুরি।
উদ্যোগের বিষয়ে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান এদিনের জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, প্রতিদিন প্রসূতি ও গুরুতর রোগীদের এই পথে আসা-যাওয়ার কষ্ট দেখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট সময়ও রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার কারণে সেই সময় নষ্ট হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, তবে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করবে বলে আশা করছি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রসূতি ও জটিল রোগীদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙাচোরা সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









