নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি রামদা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেপ্তারকৃতরা অন্যরা হলেন—সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)।
এসআরবির জানায়, শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক বলেন, শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। মামলা তুলে না নেওয়ায় তারাবো পৌরসভার টাটকি এলাকায় এক নারীর বাড়িতে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেন তিনি।
সংস্থাটির ভাষ্য, রূপগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যা এবং গত ১৬ সেপ্টেম্বরের নাদিম অপহরণ মামলাতেও শ্রাবণের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তার গ্যাং সক্রিয় ছিল বলেও দাবি করে এসআরবি।
এসআরবি জানায়, ২০২৪ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শ্রাবণ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস পর জামিনে বেরিয়ে তিনি ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি সংস্থাটির।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক আরও জানান, রূপগঞ্জে সক্রিয় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের একটি শ্রাবণের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তার সঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হচ্ছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









