মৌলভীবাজারে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো ঠাঁই হবে না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সরাসরি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কারো যোগসাজশ আছে কি না, তা-ও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কড়া বার্তা দেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজারের সকল বাসস্ট্যান্ড, প্রেসক্লাব মোড় ও চৌমুহনীসহ কিশোর গ্যাংয়ের চিহ্নিত আড্ডাস্থলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি ফেরানোর ওপর জোর দেন মন্ত্রী। শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং মনু নদী সেচ ও সুরক্ষা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এবং শতভাগ মান বজায় রেখে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় গাফিলতির অভিযোগে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ড. মামুনুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে প্রত্যাহারের কড়া নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সোমবারের মধ্যে তাকে সরিয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সভায় আর উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব রিপন আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









