‘দৈনিক এদিন’ পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হবার পর পিরোজপুরের নেছারাবাদে ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের চুরি যাওয়া ৩০ প্যাকেট দুধের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত তিন যুবক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা বিদ্যালয়ে এসে এসব প্যাকেটগুলো ফেরত দেন। বাকি তিন প্যাকেট দুধ তারা খেয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তদের একজন।
চুরির ঘটনা শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা ৭৯ প্যাকেট দুধ রাখা ছিল। সেদিন নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। এসময় শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা জানান, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষকরা ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে তিন যুবক লাইব্রেরি থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার সকালে অভিযুক্তরা এসে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে যান। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছেন।
অভিযুক্তদের একজনা বলেন, ‘‘তিন বন্ধু স্কুল থেকে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছি। এগুলো যে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা আমরা জানতাম না। পরে ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়ার কথা জানতে পেরে বুধবার সকালে স্কুলে এসে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ খুঁজে বের করে ফেরত দিয়েছি।’’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘গত শুক্রবার বিন্নায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে আসায় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে স্কুল খুলে দেওয়া হয়। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট অভিযুক্ত তিন বন্ধু নিয়ে যায়। বুধবার সকালে তারা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে গেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে সময়মতো জানানো হয়নি। এ কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।’’
নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঘটনাটি গত শুক্রবারের। কিন্তু কয়েক দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানায়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা চুরি যাওয়া দুধের ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।’’
এদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









