গাইবান্ধা সদর উপজেলার কিসমত মানিকবাড়ী এলাকায় ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে ভাইদের অংশ ও স্বার্থ উপেক্ষা করে বোনদের অংশের জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমি বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানানোর পরও দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ায় গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিসমত মানিকবাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর-৬২১, বিএস খতিয়ান নম্বর-৪৮৪, সাবেক দাগ নম্বর-২১০৭ এবং হাল দাগ নম্বর-২৩৬৪-এর জমির একটি অংশ নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ওই সম্পত্তির অংশবিশেষ পরিবারের অন্য ভাইদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধের জন্য গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত আপত্তি জানান ভুক্তভোগী ভাই জিয়াউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও হামিদুর রহমান। অভিযোগকারীদের দাবি, সে সময় সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাবীব আফতাব বিষয়টি দেখার জন্য দুই দিনের সময় নেওয়ার কথা বললেও ওই দিনই সংশ্লিষ্ট জমির দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাবীব আফতাব বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সঠিক পেয়েছি এবং নিয়ম অনুযায়ী দলিল সম্পন্ন হয়েছে। এটি তাদের পারিবারিক বিরোধ। এ ধরনের বিরোধ আমরা সমাধান করতে পারি না, এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আদালতে মামলা করতে পারেন।”
এদিকে, জমির মালিকানা, ওয়ারিশদের অংশ এবং কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে এসএ ও বিএস খতিয়ানের কপি, দলিলের ফটোকপি এবং ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









