গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একজন বাবা এসেছেন চোখেমুখে দুশ্চিন্তা নিয়ে সামনে সন্তানের অপারেশন। আরেক বৃদ্ধা এসেছেন নিজের ও স্বামীর অসুস্থতার কথা জানাতে। স্বামী হারানো এক নারী এসেছেন মেয়ের অধিকার নিয়ে কথা বলতে। এভাবেই শত শত মানুষ অপেক্ষায় আছেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়ার। একে একে সবার কথা শুনছেন তিনি। শুধু অভিযোগ শুনেই দায়িত্ব শেষ করছেন না, সামর্থ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সহযোগিতার উদ্যোগও নিচ্ছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক।
প্রতি বুধবারের মতো আজকের (৭ অক্টোবর) গণশুনানিতেও দেখা গেছে এমনই মানবিক দৃশ্য।
ছোট্ট আবিরের অপারেশনের জন্য সহায়তায় আশায় জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছেন বাবা শহিদুল। অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। প্রয়োজন অপারেশনের, কিন্তু টাকার অভাবে পারছেন না। আবিরের সুস্থতার জন্য এর আগে ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছিলেন কিন্তু আবারও অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়ার দারস্ত হন শহিদুল। তার কথা শুনে এবারও দেরি না করে আরও ১৫ হাজার টাকা সহায়তা করেন তিনি।
শহিদুল বলেন, “ডিসি মহোদয় আমার বাচ্চা আবিরের অসুস্থতার কথা শুনে আগে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আজ আবার অপারেশনের কথা বললে উনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ১৫ হাজার টাকা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ উনার নেক হায়াত দান করুক।”
গণশুনানিতে নিজের ও স্বামীর অসুস্থতার কথা জানাতে আসেন ৬৫ বছর বয়সী নাজমা আক্তার। জেলা প্রশাসক মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।
একজন অসহায় মানুষের কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া এবং তার কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার এই দৃশ্যটি গণশুনানিতে উপস্থিত অনেকের নজর কাড়ে।
শুধু অর্থ সহায়তাই নয় অনেক অভিযোগের নিস্পত্তি করার চেষ্টা করেন গাজীপুরের এই জেলা প্রশাসক।
তেমনি এক অভিযোগ নিয়ে আসেন ৪০ বছর বয়সী বিধবা দীপু রানী। স্বামীকে হারানোর পর মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তাই ছুটে আসেন জেলা প্রশাসকের কাছে।
দীপু অভিযোগ করেন, শ্বশুরের জমি থেকে তার একমাত্র মেয়েকে মৃত স্বামীর তিন ভাই বঞ্চিত করছেন। তার কথা ধৈর্য ধরে শুনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্দেশ দেন দীপু রানীর সমস্যা নিরসনের।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া বলেন, “গণশুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে সপ্তাহের প্রতি বুধবার, কিন্তু প্রতিদিনই অসহায় মানুষজন আসছেন। তাদের কথা শুনতে হয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছি।”
জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের জন্য সরকারি সহায়তার কথা তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত হৃদরোগসহ সাতটি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যোগ্য রোগীদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









