যশোরে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আলী মনির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থানায় মামলা হলেও এখনো ধরা পড়েনি কোনো আসামি।
জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে শহরের নওদাগ্রাম বিশ্বাসবাড়ি মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোমবার (৫ অক্টোবর) মামলা হয়েছে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে শনিবার (৩ অক্টোবর) ৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মিছিল করা হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার প্রস্তুতি নিলে তিনি একই এলাকার মো. তুষারকে নিষেধ করেন। এতে তুষারসহ কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর ও হত্যার উদ্দেশে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।
এজাহারে আরো বলা হয়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আরএন রোডের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ইজিবাইকে নিজ বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে শহরের পালবাড়ির তেঁতুলতলা এলাকায় নামেন আলী মনি। পরে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে নওদাগ্রাম বিশ্বাসবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার মো. তুষার (৩৫), রিয়াদ মিন্টু গাজী (৩৪), রাজন (২২), সাইফুল ইসলাম (৩৮), হারুন (৫০) ও আবু সালাম মেম্বর (৪৬) সহ ৫-৬ জন মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন। তাদের হাতে থাকা লোহার রড, জিআই পাইপ ও ধারালো দা নিয়ে তার ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে মো. তুষার তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করেন। গুরুত্বর আহত আলী মনিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলার সময় আলী মনির ব্যাগ থেকে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় আসামিরা। পরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের ফেলে যাওয়া একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করে। এ ঘটনায় হামলা, মারধর, টাকা নিয়ে যাওয়া ও হত্যার হুমকির অভিযোগে থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় মো. তুষার, রিয়াদ মিন্টু গাজী, রাজন, সাইফুল ইসলাম, হারুন ও আবু সালাম মেম্বরকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে গত শনিবার ৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল বলেন, ‘‘আলী মনির ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। হামলায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘‘আলী মনির অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে হামলায় জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘হামলার ঘটনায় দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









