সিলেটের কৃষিপণ্যের বড় একটি বাজার দেশের বাইরে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিম, নাগা মরিচ, ফরাস, কচুমুখী, জারা লেবু ও সাতকড়াসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে।
কিন্তু সংরক্ষণ, মান ঘাচাই ও আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং সুবিধার অভাবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। এবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে প্রায় পাঁচ একর জায়গায় আধুনিক 'প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ' নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশের বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় এক হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ, প্যাকিং ও গ্রেডিং সুবিধা, ১০টি পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সম্মেলনকক্ষ, অফিস ভবন ও বিদেশি ক্রেতাদের থাকার জন্য গেষ্ট হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পণ্য পরিবহন, লোডিং-আনলোডিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকবে। সিলেটের হাওরের মাছ রপ্তানির জন্য সার্টিফিকেশন সুবিধা ও একটি সেল সেন্টার যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
কৃষি বিলশন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, ‘‘অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পর খসড়া ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওসমানী বিমানবন্দরের পাশে বড়শালা এলাকায় প্রকল্পের জন্য আয়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ একর জায়গায় কমপ্লেক্সটির নির্মাণ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘কমপ্লেক্সে ১০টি ল্যাব, গ্রেডিং রুম, কোল্ড স্টোরেজ চেম্বার, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও গেষ্ট হাউস থাকবে। মাছ রপ্তানিরা জন্য সার্টিফিকেশন ও সেল সেন্টার যুক্ত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।’’
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘‘ওসমানী বিমানবন্দরের পাশে বড়শালা এলাকায় খাসজমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জায়গা বরাদ্দ দিতে কোনো সমস্যা নেই।’’
সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের ২৭এপ্রিল সেখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গোফ্লাইট চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় স্থানীয়র কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কার্যকর সুবিধা তৈরি হয়নি।
ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরসংলগ্না এলাকায় প্যাকিং হাউস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এই সুবিধা তৈরি হলে সিলেটের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ বাড়বে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ড. ফজলে এলাহী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘‘রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে যেতে পারবেন। এতে কৃষকদের জন্যয় ফসল উৎপাদন ও বিক্রির স্থায়ী বাজার তৈরি হওয়ারা সম্ভাবনা রয়েছে।’’
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেবন ভাইস প্রেসিডেন্ট ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ এদিনকে বলেন, ‘‘প্রকল্পটির বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অবগত নই। তবে নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’’
তিনি বলেন, ‘‘এখানে ওয়্যারহাউস নির্মাণের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতাও থাকতে হবে। অন্যথায় প্রকল্পটি প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে না।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









