বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, ‘‘আমরা কৃষককে সুবিধা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। তারমধ্যে কৃষককে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক দিচ্ছি। পাশাপাশি মূল্যটা যে আপনি বলেছেন সেটাও আমরা একটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নির্ধারণ করব, যাতে কৃষকরা সরাসরি সু্বিধাটা পেতে পারে। আপনারা জানেন যে, বিগত ১৭ বছর বন্ধ থাকা পাটের ক্রয় সেন্টার চালু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়াও বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে করে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা না পায়।’’
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলে মাভাবিপ্রবি’র দরবার হলে মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মজলুম জননেতা ভাসানীর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্মময় জীবন নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রেরণা জোগাবে। ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন আমাদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’’
শরীফুল আলম বলেন, ‘‘পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি তাদের কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সর্বজনশ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছেন, তাদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের, বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষানুরাগী ছিলেন এবং মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন।’’
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘বেগম আলেমা খাতুন ভাসানী তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অবদান রেখেছেন। গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’’
গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুদৃষ্টি দেওয়া তো দূরের কথা, অচল অবস্থায় নিয়ে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে চায়। তাদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শও ধারণ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য সুযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রতি মওলানা ভাসানী ও আলেমা খাতুন ভাসানীর দায়বদ্ধতা এসব দায়িত্ব পালনে আমাদের প্রেরণা জোগায়।’’
এ সময় মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অতিথিরা মাজারে গিয়ে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তার সহধর্মিণীর কবর জিয়ারত করেন। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









