রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল–এর গাড়িবহরের প্রটোকলে নিয়োজিত পুলিশের একটি গাড়ির সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কুতুপালং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক আহত হন। আহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া শাহপরী হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার সময় ভিআইপি প্রটোকল ভেঙে একটি অটোরিকশা হঠাৎ গাড়িবহরে ঢুকে পড়ে। এ সময় প্রটোকলে থাকা পুলিশের একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি জব্দ করা হয়েছে এবং আহত চালককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে মেসুত ওজিল এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান–এর পুত্র নেকমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাদের স্বাগত জানান।
পরে তাদের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের তুর্কি প্রতিনিধিদল উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা Turkish Cooperation and Coordination Agency (টিকা)-এর সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ক্যাম্পে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিলাল এরদোয়ান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গারা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ভবিষ্যতে নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে ফিরতে হলে তাদের শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন জরুরি। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে; ওজিলের মতো বিশ্বপরিচিত ব্যক্তিত্বের সফর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আবারও আকর্ষণ করবে বলে তারা আশা করছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, তুর্কি সংস্কৃতি অনুযায়ী রমজানের প্রথম ইফতার পরিবারের সঙ্গে করার প্রচলন রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিবারের সদস্য মনে করেই ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান তাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। তিনি বলেন, আট বছর ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শরণার্থীরা নানামুখী দুর্ভোগে রয়েছেন। তুর্কি প্রতিনিধিদল বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গা সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানায় এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা টিকা পরিচালিত মাল্টিপারপাস শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল, টিকা মিউজিক স্টুডিও এবং কম্পিউটার ও রোবোটিক্স ল্যাব উদ্বোধন করেন। তারা শরণার্থীদের বসবাসের পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিকাল সাড়ে ৪টায় উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাঠে আয়োজিত প্রতীকী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন মেসুত ওজিল। মাঠজুড়ে ‘ওজিল, ওজিল’ ধ্বনিতে মুখর পরিবেশে শিশু-কিশোরদের মাঝে আনন্দ ও অনুপ্রেরণার সঞ্চার হয়। সফর শেষে তুর্কি প্রতিনিধিদল ঢাকায় ফিরে কূটনীতিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









