নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন মো. জাহিদ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, বাবা মোহাম্মদ হোসেনের মৃত্যুর চার দিন পরের তারিখে সম্পাদিত একটি দলিল দেখিয়ে জমির আংশিক মালিকানা দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিতর্কিত স্থানে বাড়ি নির্মাণ এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সৈয়দপুর শহরের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাহিদ হোসেন। এ সময় তিনি পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, বিতর্কিত দলিলের সত্যতা যাচাই এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহিদ বলেন, শহরের পুরাতন বাবুপাড়ায় তাদের পৈত্রিক ৬৪ শতক জমি রয়েছে। তাঁদের বাবা মোহাম্মদ হোসেন ২০০৪ সালের ২৭ অক্টোবর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সৈয়দপুর পৌরসভার মৃত্যু নিবন্ধনেও লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অথচ পরিবারের আরেক সদস্য শামিমা খাতুনের পক্ষে দেখানো একটি জমির দলিলে ২০০৪ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখ উল্লেখ রয়েছে। বাবার মৃত্যুর চার দিন পরের তারিখে দলিলটি সম্পাদিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এর বৈধতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
জাহিদের দাবি, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৬৪ দশমিক ৯৩ শতক। পরিবারের ১১ জন অংশীদারের মধ্যে জমির হিস্যা ও বণ্টন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ৬৪ শতকের স্থালে ৪৭ শতক জমির হিসাব দেখানো হলেও তাঁকে মাত্র ৪ শতক জমি দেওয়া হয়েছে। হিসাবে ৮ থেকে ৬ শতক পাওয়ার কথা। ওই জমির পরিমাণ ও সীমানা নিয়েও তাঁর আপত্তি রয়েছে। জমির প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানার নথি ও প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান জাহিদ। মামলা দুটি হলো এমআর মামলা নং ২৫৬/২০২৬ ও ২৪৩/২০২৬।
জাহিদের অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন রাজমিস্ত্রি নিয়ে বিতর্কিত জমিতে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির সীমানা নিয়ে আপত্তি জানালে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় উপস্থিত সাক্ষীরাও পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমির সীমানা নিয়ে আপত্তি জানালে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন জাহিদ।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১০ অক্টোবর সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান জাহিদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও উত্তরাধিকারীদের হিস্যা নির্ধারণ, মৃত্যুর পরের তারিখে সম্পাদিত বলে দেখানো দলিলটির সত্যতা যাচাই, বিতর্কিত জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য হিস্যা নির্ধারণ, বিতর্কিত দলিলের সত্যতা যাচাই, জমির সঠিক পরিমাপ এবং নির্মাণকাজের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন সহ প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









