মাদারীপুরের শিবচরে রাতের আঁধারে পৈতৃক জমি দখল, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো কাঁঠালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা এবং জমিতে তারের বেড়া দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য মাহাবুব খান, তাঁর ভাই আদম ব্যবসায়ী সোহেল খান এবং তাঁদের বোন সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী সরদার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে কয়েক শ এলাকাবাসীও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় বক্তারা জমির মালিকানা যাচাই, গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে তাঁদের পৈতৃক প্রায় ২৫ শতাংশ জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে ওই জমিতে তারের বেড়া দিয়ে সীমানা তৈরি করা হয়। কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
সরদার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় দুই শত বছর ধরে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বসবাস করে আসছেন। পরিবারের প্রয়াত দবির উদ্দিন সরদারের মৃত্যুর পর তাঁর চার মেয়ে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একই এলাকার প্রয়াত ফজলুল খানের ছেলে মাহাবুব খান ও সোহেল খান এবং মেয়ে সোমা আক্তারের সঙ্গে ওই জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না করে রাতের আঁধারে এ ধরনের জবরদখল চালানো হয়েছে।
জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি মাহাবুব খান, সোহেল খান ও সোমা আক্তারকে ঘিরে মাদক ব্যবসা ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া গাছ কাটা ও জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন সকালে শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী রুজিয়া আক্তার খুকু ও রুবিয়া খানম রাইতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের কাছে জমির কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে পূর্বপুরুষদের গাছ কেটে জমি দখল করা হয়েছে এবং থানায় অভিযোগ করেও আমরা সহযোগিতা পাইনি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।"
এদিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, "কোনো জায়গার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা অমান্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জায়গা-জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার বিষয়ও থাকতে পারে। বিষয়টি সে রকম কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









