শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ করে এখন রং-তুলির আচড়ে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অন্যদিকে, পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকদের ব্যস্ততা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে।
শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের পর ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ১৬৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
প্রতিমাশিল্পী শ্রী লাবু পাল বলেন, মহাষষ্ঠীর আগেই মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের উপযোগী করে সব কাজ শেষ করতে হবে। প্রতিমার কাঠামো তৈরি, খড় বাঁধা এবং কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং করা ও সাজসজ্জার কাজ। হাতে সময় কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
আরেক প্রতিমাশিল্পী শ্রী প্রদীপ পাল বলেন, খড়, বাঁশ, রং এবং এঁটেল ও দোআঁশ মাটিসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে প্রতিমা নির্মাণের ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক বাড়েনি। তারপরও প্রতিমা তৈরির কাজের মধ্যেই তারা আনন্দ খুঁজে পান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ভক্তদের সামনে দেবী দুর্গাকে অপরূপ সাজে তুলে ধরতে চান তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব শ্রী ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। অধিকাংশ পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে উৎসব উদ্যাপন করেন। এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, জেলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। আগের বছরগুলোর মতো এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য পুলিশের একটি দল কাজ করছে। দুর্গোৎসব ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কাজ, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও নিরাপত্তাপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে এখন দেবী দুর্গাকে বরণের অপেক্ষায় রয়েছেন আয়োজক ও ভক্তরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









