সরকার ঘোষিত ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান অমান্য করে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করায় ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযানে প্রায় ৬ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
চলমান এই অভিযানের চতুর্থ দিনে রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোলা সদর, তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোলা সদর, তজুমদ্দিন ও লালমোহনের বিভিন্ন পয়েন্টে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালায় জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অভিযানে তজুমদ্দিনে মেঘনা নদী থেকে ৩ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তড়িৎ চন্দ্র শীল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ২৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদী থেকে ১ জেলেকে আটক করে ১৪ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ানুল হক। এছাড়া ভোলা সদরে মেঘনা নদী থেকে ৪ জেলেকে আটক করে ১৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম মশিউর রহমান।
সাজাপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন— তজুমদ্দিনের সোনাপুর ইউনিয়নের মো. কবির, মো. সোলাইমান ও মো. শাহীন এবং পটুয়াখালীর বাউফলের মো. হানিফ। অপর চারজনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, অভিযানে দুই হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয় এবং জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলার ৭টি টিম একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। রবিবার জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৮ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও ৪০ কেজি মাছ গরীব ও এতিমদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









