পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার রিমা আক্তার বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে থানা-পুলিশের সহায়তায় রিমা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তার অভিযোগে স্বামী আবুবকর, শ্বশুর খলিল মাওলানা, ভাশুর ফয়জুল ও নাসিমা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমা উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার আবদুস সালাম মৃধার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে আবুবকরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের মেয়ে ফাহমিদার বয়স পাঁচ বছর।
রিমার অভিযোগ, স্বামীর চাকরির জন্য বিয়ের পর থেকে তার কাছে যৌতুক দাবি করা হতো। প্রথমে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২৩ আগস্ট তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তাদের বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
খলিল মাওলানার বেয়াই আনিচ খাঁ বলেন, আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে পরে কেন মা-মেয়েকে মারধর করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় সালিশে যুক্ত ধানদী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বলেন, এর আগে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সালিশ হয়েছিল। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়। রিমা স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরে প্রত্যাহার করা হয় বলে তিনি জানান।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









