বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী এই মহা-উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে গড়াই নদীর পাড়সংলগ্ন রবীন্দ্র-লালন উদ্যান এবং লালন আখড়াবাড়ি এলাকায় পুলিশ, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার।
‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স-এবারের লালন মেলায় মাদকের কোনো স্থান নেই’ স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত এই অভিযানে ২ হাজার পিস গাঁজা সেবনের কলকে উদ্ধার এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লালন মেলার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির অংশ হিসেবে ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০০ পিস গাঁজা সেবনের কলকে জব্দ করা হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় চার ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার বলেন, ‘‘লালন একাডেমি ও এর আশপাশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মাদক ও যেকোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূলে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। লালন মেলা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবতার মিলনমেলা। এই আয়োজনকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’’
তিনি আরও জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান মেলা চলাকালীন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
মাদকবিরোধী এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









