ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক শক্তি ভেঙে দেওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখান থেকে তার পক্ষে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধের সাত মাসের মাথায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বাস্তবতা অন্য এক হিসাব সামনে আনছে। সামরিক শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থেকেও ইরান এমন কিছু জায়গায় আঘাত করেছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে তেল-গ্যাসের বাজার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, বিমান চলাচল ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়।
রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও তার মিত্ররা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অন্তত ৮৪টি অবকাঠামোস্থলে ১৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও ইরাক—কেউই এই হামলার বাইরে থাকেনি। এসব হামলার বিশেষত্ব শুধু আঘাতের সংখ্যা নয়; বরং কোন স্থাপনার কোন অংশে আঘাত করা হয়েছে, সেটিই আসল বিষয়। লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এমন সব যন্ত্রপাতি ও সংযোগব্যবস্থা, যেগুলো অচল হয়ে পড়লে একটি বিশাল স্থাপনার কার্যক্রম থেমে যেতে পারে।
এ কারণেই ইরানের যুদ্ধকৌশলকে নিছক পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এমন এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ, যেখানে প্রতিপক্ষের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি তার অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তেলের প্রবাহ আটকে দেওয়ার কৌশল
এই কৌশলের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ায় ইরান প্রণালিটি অবরুদ্ধ করলে এই বন্দর দিয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ ছিল। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে ফুজাইরা হয়ে উঠেছিল বিকল্প পথ। কিন্তু ইরানের হামলায় সেই বিকল্প ব্যবস্থাও বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ফুজাইরায় অন্তত ১৯ বার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল তেল সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং জাহাজে তেল তোলার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাট্রিক্স ম্যানিফোল্ড—৬২টি পাইপের একটি সংযোগব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তেলের টার্মিনাল থেকে জাহাজে তেল পাঠানো হয়।
মার্চে একের পর এক হামলায় এই ব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৪ মে আবারও হামলায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিশোধিত জ্বালানির রপ্তানি প্রায় এক মাসের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। হামলার দিন থেকে ১ জুন পর্যন্ত বন্দরটি থেকে মাত্র একটি জাহাজ পণ্য নিয়ে বের হয়েছিল বলে জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে। পরিশোধিত জ্বালানির রপ্তানি স্বাভাবিক হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি বন্দরে হামলা মানেই শুধু কিছু স্থাপনা পুড়ে যাওয়া নয়। তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ, পাইপলাইনে পরিবহন, শোধন এবং জাহাজে তোলার প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এই শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ নষ্ট হলে পুরো ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা কমে যায়। ইরান সেই দুর্বলতাটিই কাজে লাগিয়েছে।
হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রামানান কৃষ্ণমূর্তি রয়টার্সকে বলেছেন, ফুজাইরার পাইপলাইন সংযোগব্যবস্থার ক্ষতি আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা বিশ্বাস করা কঠিন। তাঁর ভাষায়, এটি যেন একটি ব্যবস্থার মস্তিষ্ক ও হৃদ্পিণ্ডে আঘাত।
উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বহু ক্ষেত্রেই ক্ষয়ক্ষতির জন্য বাধা দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষকে দায়ী করেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে পাওয়া ছবি, উপগ্রহচিত্র এবং বিভিন্ন শিল্পবিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে বারবার অসংগতি দেখিয়েছে। অনুসন্ধানের ফলাফল পর্যালোচনা করা ১৪ জন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ক্ষতি কেবল আকস্মিকভাবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ার ফল—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় অস্ত্র অর্থনৈতিক নির্ভরতা
কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি স্থাপনাতেও ইরানের হামলা গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। সেখানে গ্যাসকে তরলে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় শীতলীকরণ সরঞ্জাম রাখা দুটি ‘কোল্ড বক্স’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি মার্চে রয়টার্সকে বলেছিলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত কাতারের উৎপাদনব্যবস্থায় এমন ক্ষতি বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারের জন্যও বড় ঝুঁকি।
একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্স, কাতারের পার্ল গ্যাস-টু-লিকুইডস শোধনাগার এবং আবুধাবির আল তাওয়েলাহ অ্যালুমিনিয়াম কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতেও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এসব স্থাপনার কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণ পুনরুদ্ধারে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে বলে কোম্পানির বিবৃতি ও জ্বালানি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
আল তাওয়েলাহর ঘটনা দেখায়, একটি কারখানাকে অচল করতে প্রতিটি উৎপাদন ইউনিটে আলাদা করে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। ইরানের হামলায় কারখানাটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গলিত অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ১ হাজার ২৬২টি স্মেল্টিং সেলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাস পর প্রথম সেলটি চালু করা সম্ভব হয়। আগস্টের শেষ নাগাদও মোট সেলের মাত্র এক-চতুর্থাংশ চালু হয়েছিল। উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
হামলার পর বৈশ্বিক অ্যালুমিনিয়ামের দাম চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। অর্থাৎ, উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি কারখানার ক্ষতি কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
জল, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাও যুদ্ধের লক্ষ্য
ইরানের হামলা শুধু তেল ও গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানির অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মরুভূমির দেশটির পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার কেন্দ্র থেকে। এসব কেন্দ্রের অনেকগুলো আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। ফলে একটি স্থাপনায় হামলা একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহকে বিপন্ন করতে পারে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২ মার্চ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে কুয়েতের আটটি যৌথ বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের অন্তত চারটিতে হামলা হয়েছে। কয়েকটি স্থাপনায় একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইউটার মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রের পরিচালক মাইকেল ক্রিস্টোফার লো সতর্ক করেছেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক পানি শোধনাগার অচল করে দেওয়া গেলে কুয়েতের মতো দেশে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পানির সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
বিমানবন্দরও হামলার বাইরে থাকেনি। কুয়েতের বিমানবন্দরে আটবার হামলা হয়েছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিমান চলাচল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজিটাল সেবায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বাহরাইনের একটি কেন্দ্রে হামলার ছয় মাস পরও সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা যায়নি।
এই ঘটনাগুলো যুদ্ধের একটি বদলে যাওয়া বাস্তবতা তুলে ধরে। আধুনিক রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সেনাবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করে না। বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ, ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহনের ধারাবাহিকতাও রাষ্ট্রের কার্যক্ষমতার অংশ। এসবের কোনো একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়লে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নাগরিক জীবন ও অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হতে পারে।
সৌদি আরবের বিকল্প পথও নিরাপদ নয়
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হলে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানো যায়। যুদ্ধের সময় এই পাইপলাইন ও বন্দর সৌদি রপ্তানির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় লোহিত সাগর উপকূলের স্থাপনাগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে।
সৌদি আরবের জাজান শোধনাগারে ২৫ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত চারবার হামলা হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। হামলার পর শোধনাগারটির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে বলে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় সৌদি আরবের নয়টি বৃহত্তম শোধনাগারের পাঁচটি এবং তিনটি বড় তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসের অধিকাংশ সময় সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদন ৭০ লাখ ব্যারেলের নিচে ছিল। যুদ্ধের আগে উৎপাদন ছিল ১ কোটি ব্যারেলের বেশি। বর্তমান দামে এই ঘাটতির আর্থিক মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে সৌদি মরুভূমিতে তিনটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার পর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সীমা কোথায়?
যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও শক্তিশালী। তা সত্ত্বেও ইরানের হামলা ঠেকানো যায়নি পুরোপুরি। এর একটি কারণ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারলেও সব হামলা ঠেকাতে পারে না। আর প্রতিপক্ষ যদি জানে কোন যন্ত্রাংশে আঘাত করলে একটি বড় স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে, তবে অল্প কয়েকটি সফল হামলাও বিপুল ক্ষতি ঘটাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন কর্মকর্তা ও বিমান হামলা সমন্বয়কারী রায়ান স্টিভেনস রয়টার্সের অনুসন্ধান পর্যালোচনা করে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্বাচনের দক্ষতা, নির্ভুলতা ও ধৈর্যের পরিচয় পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইরানের এই সক্ষমতা কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়া ও চীন ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশাধিকার আছে—এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও ছবি ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে ইরান। তবে এসব অভিযোগের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবে হামলার পর নির্দিষ্ট ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বাহরাইন জানিয়েছে। কিন্তু তথ্য গোপন রাখলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরানের এই কৌশল যুদ্ধের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে দেবে কি না, তা এখনই বলা যায় না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: সামরিক শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করা এবং তার বাইরে তেল, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহনব্যবস্থায় নির্ভুল আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের ময়দান শুধু সীমান্ত বা রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো কয়েক মিটারজুড়ে থাকা একটি পাইপলাইন সংযোগ, একটি শীতলীকরণ যন্ত্র কিংবা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই হয়ে উঠতে পারে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের হাতিয়ার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









