নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো আনুষ্ঠানিক তফসিল বা সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৩ নম্বর মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনই ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইউনিয়নের সর্বত্র বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পেতে এবং নিজেদের জনসমর্থন জানান দিতে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির চার শীর্ষস্থানীয় নেতা মাঠে সক্রিয় থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা রয়েছে। বিগত দিনে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও এই ইউনিয়ন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। এসব সমস্যা দূর করে মিরপুরকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে যাঁদের মাঠে তৎপর থাকতে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৯০ দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এম এ আজিজ। হলিয়াড় পাড়ার কৃতিসন্তান এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়সর এম আহমদের সঙ্গে নব্বইয়ের দশকে রাজপথে রাজনীতি করা এই নেতা দলীয় সমর্থন ও জনগণের দোয়ায় লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর প্রধান অঙ্গীকার—উন্নত অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, ক্রীড়ার প্রসার এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক জনমুখী সেবা নিশ্চিত করা।
এছাড়া মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ৯০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, সিলেট মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য মহি উদ্দিন বাবলু। সমাজসেবার ব্রত নিয়ে তিনি মিরপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
তৎপরতা চালাচ্ছেন মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখলুল করিম। তিনি ইউনিয়নের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং প্রবাসী নাগরিকদের উন্নত সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম এম সুহেল।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৃথকভাবে উঠান বৈঠক, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মতবিনিময় সভা করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলছেন, তাঁরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ বা কাজের কোনো অর্থ আত্মসাৎ করবেন না, বরং সম্পূর্ণ অংশ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবেন। আগামী দিনে মিরপুর ইউনিয়নকে আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর প্রকাশ্য বা গোপনীয় নির্বাচনী প্রস্তুতিরও কোনো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে না।
ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এমন একজন সৎ ও যোগ্য চেয়ারম্যান চান, যিনি নির্বাচিত হয়ে বিদেশ বা অন্য কোথাও চলে যাবেন না এবং অন্য কাউকে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ পরিচালনা করাবেন না। যিনি নিজে সরাসরি জনসাধারণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন—এমন জনবান্ধব নেতৃত্বই এখন মিরপুরবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









