১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার দুর্গাপূজার বিশেষ সংখ্যায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে যখন সারা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন উত্তাল, সে সময় কাজী নজরুল ইসলাম দুর্গার আগমনকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক করে তোলেন। কবিতায় দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানোর আড়ালে কবি তুলে ধরেন পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষের দুর্দশা, তরুণ বিপ্লবীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ব্রিটিশ শাসনের নিষ্ঠুরতা। ধর্মীয় অনুষঙ্গকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা দিয়ে নজরুল কবিতাটিকে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিরোধের আহ্বানে পরিণত করেন। কবিতাটি প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করে। কবিতাটিকে কেন্দ্র করেই নজরুলের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা হয়; ১৯২২ সালের নভেম্বরে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। নজরুলকে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কবি সেখানে যখন বন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন তখন ১৯২৩ সালের ২২ জানুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এতে নজরুল উল্লসিত হন। এই আনন্দে জেলে বসেই ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতাটি রচনা করেন।
দৈনিক এদিন অনলাইন দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ উপলক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাসহ ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি পাঠকের সামনে পুনরায় আনল।
আনন্দময়ীর আগমনে
আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?
মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা বোল নাকি-নাকি
খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি।
ঢাল তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা,
মাদীগুলোয় কর মা পুরুষ, রক্ত দে মা রক্ত দেখা।
তুই একা আয় পাগলী বেটী তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে
রক্ত-তৃষার ‘ময়-ভুখা-হু’র কাঁদন-কেতন কণ্বে ধরে।-
অনেক পাঁঠা-মোষ খেয়েছিস, রাক্ষসী তোর যায়নি ক্ষুধা,
আয় পাষাণী এবার নিবি আপন ছেলের রক্ত-সুধা।
দুর্বলেরে বলি দিয়ে ভীরুর এ হীন শক্তি-পূজা
দূর করে দে, বল মা, ছেলের রক্ত মাগে দশভুজা।..
‘ময় ভুখা হুঁ মায়ি’ বলে আয় এবার আনন্দময়ী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









