আজ নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ হামলার শিকার হয়েছে। মোদী সরকার ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে । শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে ভয় দেখানো হচ্ছে, স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না, বরং প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্র ও সংবিধান কার্যত জিম্মি। নির্বাচনী তালিকার অনিয়মের বিরুদ্ধে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ডাকা বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া মানুষদের যেন বেআইনিভাবে আটক না করা হয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি সাপেক্ষে দিল্লি মেট্রোর স্বাভাবিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় তা খেয়াল রাখতে।
বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, যে কোনো বিধিনিষেধকে অবশ্যই ‘প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার’ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে; সংস্থাটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে ‘ব্যাপক ধরপাকড়’-এর খবরে তারা ‘উদ্বিগ্ন’। তবে সরকার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার কঠোর ভাষায় উদ্বেগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ওএইচসিএইচআর-এর বিবৃতিকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে। ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আমাদের সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম দ্বারা তা সুরক্ষিত।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতোই, ভারতের নাগরিকরা জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার শর্ত সাপেক্ষে এই অধিকার চর্চা করেন। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে আইন মেনে কাজ করে এবং যে কোনো অভিযোগের প্রতিকারের জন্য আমাদের আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত।’
কিন্তু বাস্তবতা হলো, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে। এছাড়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যারিকেডের কারণে অধিকাংশ বিক্ষোভকারীই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। মুম্বাই থেকে ফ্লাইট দিল্লিতে অবতরণের পরপরই এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অন্য দুই নেতা- সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়।
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দমন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চাপিয়ে দিয়েছেন। পরিবহন পরিষেবা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ, মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা এবং তরুণ বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখার উদ্দেশ্য হলো বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা। বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে করা যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতকে এক ‘গৃহযুদ্ধ-সদৃশ পরিস্থিতির’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‘জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে’ আটকাবস্থা থেকে মুক্তির পর সিজেপি নেতারা ঘোষণা দিয়েছে। নেতাদের আটক এবং দিল্লিতে বিক্ষোভে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাকে একনায়কতন্ত্রের প্রকাশ্য নিদর্শন ও ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করা যায়।
গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতে এক নির্লজ্জ স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিমান অবতরণের পরপরই দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতাদের তিনজনকে ‘অপহরণ’ করে নিয়ে যায়। তাদের কোনো নথিপত্র বা গ্রেপ্তারের কারণ দেখানো হয়নি। কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাদের ফোনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারা যখন তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে এবং বাজেয়াপ্ত করার মেমো ও 'হ্যাশ ভ্যালু' যা ডিভাইসের তথ্যে কোনো পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে দিতে বলে, তখন পুলিশ তা দিতে অস্বীকার করেন। তাদের আশঙ্কা, পুলিশ হয়ত তাঁদের ফোনের ক্লোন তৈরি করেছে অথবা কোনো ভুয়া প্রমাণ ঢুকিয়ে দিয়েছে। পুলিশ তাঁদের তিনজনকে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় এবং আইনজীবীদের সাথে কথা বলার সুযোগ দিতে অস্বীকার করে। হেফাজতে নির্যাতন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ডানপন্থী গোষ্ঠীর হামলা এবং সাংবাদিকদের সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার ও আটকের অভিযোগের বিষয়ে কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
সিজেপি নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘ভারতের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করছে। গত ৭২ ঘণ্টায় ভারত নির্লজ্জ স্বৈরাচারী আচরণ প্রত্যক্ষ করেছে। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীরা যখন নির্ধারিত স্থানে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হেনস্থা করা হয়। এমনকি ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ও ট্রেন বাতিল করতে হয়নি। কিন্তু এই স্বৈরাচারী শাসক এতটাই ভীত যে, গতকাল অনেক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। পুলিশ চারটি গাড়ি দিয়ে সিজেপি নেতার গাড়ি ঘিরে ফেলেছিল এবং রাস্তায় নয় ঘণ্টা আটকে রেখেছিল। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছিল যে, হয় তাঁকে পুলিশের সাথে ডিটেনশন সেন্টারে যেতে হবে, নতুবা নিজের বাড়িতেই নজরবন্দি হয়ে থাকতে হবে।
তারা বারবার আটকের কারণ জানতে চেয়েছে, কিন্তু পুলিশ শুধু বলেছে , ওপরমহল থেকে নির্দেশ এসেছে। সহ-নেতা অভিজিৎ ডিপকে ও আশুতোষ রাঙ্কার সাথে আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই দাস সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্কা এবং সিজেপি-র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং-ও উপস্থিত ছিলেন। দাস অভিযোগ করেন যে, শনিবার নয়াদিল্লিতে বিমান থেকে নামার সময় পুলিশ ‘মাফিয়া ডনদের মতো’ এসে তাঁদের ‘অপহরণ’ করে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আরো অভিযোগ করেন যে, আটক থাকাকালীন তাঁদের আইনজীবীদের সাথে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের মূল দিক হলো- এই বিক্ষোভ মূলত দেশজুড়ে ভোটার যাচাই-বাছাইয়ের একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে, যার নাম 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি। এটি গত বছর শুরু হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার আওতায় এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার ভারতের তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে এসআইআর প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন। এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে। ১০ মাস সময়ে ভোটারদের নাম নিবন্ধন, বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, এসব বিষয়ে কুমারের অন্য দুই সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সেই উদ্বেগ বা আপত্তিগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। একটি আপত্তির ক্ষেত্রে একজন কমিশনার অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন কমিশন অন্য দুই কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করেছে।
বিরোধী দলের নেতারা মোদীর বিজেপি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, দলটি ভবিষ্যতে নির্বাচনী সুবিধা লাভের হাতিয়ার হিসেবে এই প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করছে এবং তাঁরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো একমাত্র গোষ্ঠী কিন্তু সিজেপি নয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট সাম্প্রতিক সময়ে কুমারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবে তারা নিজস্ব প্রতিবাদ মিছিলও আয়োজন করছে।
শনিবারের বিক্ষোভের আগে রাজধানী নয়াদিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিক্ষোভকারীরা যাতে ভারতের পার্লামেন্টের কাছে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য সেখানে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়; পাশাপাশি ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা স্থগিত এবং বাজার ও প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। যন্তর মন্তর এলাকাটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল। দুই কোটি মানুষের এই শহরজুড়ে প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি চৌকি বসায় এবং বিক্ষোভকারীদের সন্ধানে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি চালায়। ব্যারিকেড ও কংক্রিটের ব্লকের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়; পাশাপাশি টিয়ার-গ্যাস লঞ্চারসহ দাঙ্গাবিরোধী গাড়িগুলো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে পাহারা দিতে থাকে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরজুড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এছাড়া, সিজেপি ও অন্যান্য যুব সংগঠনের অনলাইন প্রচার ও সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা রুখতে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। দিল্লি পুলিশ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করে। বিরোধী দলের কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী- যেমন পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার পিনারাই বিজয়ন- তাঁদেরও আটক করা হয়েছিল।
যেহেতু যুব নেতারা নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, এই আন্দোলন থেমে যাবে না। মোদি সরকার জনগণের ক্ষোভের গভীরতা বা মাত্রা বুঝতে পারছে না। সরকার যেভাবে এই প্রতিবাদের মোকাবিলা করছে, তাতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। এর ফলে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ সরকারের আচরণে নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও নিপীড়িত বোধ করছেন।
তাই এই পরিস্থিতির তখনই দ্রুত অবসান ঘটবে; যখন সরকার কৌশল পরিবর্তন করে, কথা শোনা ও একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক সরকারের মতো আচরণ শুরু করবে। সরকারের ধারণা, এই প্রতিবাদের লক্ষ্য হলো ‘সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা’। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রতিবাদকে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ‘কালার রেভোলিউশন’ (গণঅভ্যুত্থান বা রঙিন বিপ্লব) এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে (যেমন- নেপাল ও বাংলাদেশ) হওয়া আন্দোলনের মতোই দেখছেন। বর্তমান প্রতিবাদকে ১৯৭০-এর দশকের সেই গণআন্দোলনের সাথে তুলনা করা যায়, যার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।
অতীতে যখনই এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তখনই নির্বাচন আয়োজন ও সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদ দমন করা এবং মানুষকে আটক করার ফলে আন্দোলন, বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা আরো দীর্ঘায়িত হবে।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও গবেষক


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









