কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার চত্বরে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে মাজারের মূল ফটকের পাশ থেকে একটি সাদা রঙের ব্যাগে সংরক্ষিত অবস্থায় এসব বিপজ্জনক বস্তু উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইতোমধ্যে পুরো এলাকা ঘিরে রেখে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে একটি সন্দেহজনক সাদা ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধু-ভক্তরা। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি পরিদর্শন করেন এবং ব্যাগের ভেতর পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সদৃশ বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি অবিলম্বে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে জানান।
পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাজার চত্বর দ্রুত ফাঁকা করে দেয় এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ ঘোষণা করে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাজার এলাকা ও এর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিত্যক্ত ব্যাগটি কড়া পাহারায় রাখা হয়।
পরবর্তীতে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট)-এর সাথে জরুরি যোগাযোগ করা হয়। ঢাকা থেকে আসা ৪ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উদ্ধারকৃত ব্যাগটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পরীক্ষা শেষে ব্যাগের ভেতর দুইটি বোতলে ভরা পেট্রোল ও একটি সক্রিয় টাইম বোমার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ দলটি বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত ব্যাগটি দেখে আমাকে জানালে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ব্যাগের মধ্যকার বস্তু দেখে তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করি। সকালে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সেটি টাইম বোমা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, ঐতিহাসিক এই লালন আখড়াবাড়িতে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে নেমেছে। মাজার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে মাজার চত্বরে বোমা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়াসহ সারা দেশের বাউল সাধু, ভক্ত ও লালনপ্রেমীদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে মাজার এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে যৌথ বাহিনী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









