ঝিনাইদহের মহেশপুরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় শাশুড়ির বাবার (শ্বশুর) হাতে কুড়ালের কোপে খুন হয়েছেন গোলাম রহমান নামের এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার ভোর রাতে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই ঘাতক শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের বলিভাদ্রপুর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম রহমান জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার হুদানাইড়ি পাড়া গ্রামের কারী গোলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠানোকে কেন্দ্র করে শ্বশুর তরিকুল ইসলামের সঙ্গে জামাই গোলাম রহমানের পারিবারিক কোন্দল ও মনোমালিন্য চলছিল। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার ভোরে পারিবারিক ক্ষোভ ও পূর্ববিরোধের জেরে তরিকুল ইসলাম ঘরে থাকা ধারালো কুড়াল দিয়ে ঘুমন্ত জামাই গোলাম রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
পরবর্তীতে নিহতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘাতক শ্বশুরকে আটক করে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রতিবেশী এনামুল জানান, "ভোরের দিকে গ্রামের চায়ের দোকানে আমরা কয়েকজন চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাড়ি থেকে বিকট চিৎকার শুনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি তরিকুল ইসলাম হাতে রক্তমাখা কুড়াল নিয়ে বাড়ির উঠানে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। আতঙ্কে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিল না। পরে কৌশল অবলম্বন করে তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশে খবর দিই।" তিনি আরও জানান, তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন; হয়তো সেই কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম জানান, "সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক শ্বশুর তরিকুলকে আটক করে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি উদ্ধার করা হয়েছে।"
ওসি আরও বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানায় আনা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









