পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির তিন দিন পর রীনা বেপারী (৩৯) নামে নিখোঁজ এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই দুর্ঘটনায় তাঁর মেয়ে শিশু আদ্রিতা বেপারীর (৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিহত রীনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা শংকর বেপারী স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পূজা দেখে ট্রলারে ফিরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রীরামকাঠী বন্দর থেকে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামালের চাপে ভারসাম্য হারিয়ে ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি ডুবে যায়। অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে পারলেও রীনা ও তার মেয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে বরিশালের ডুবুরি দল শিশু আদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করে। রীনা নিখোঁজ থাকায় অভিযান অব্যাহত ছিল। বুধবার সকালে মধুরাবাদ এলাকায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে উদ্ধারকারী দল সেটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের দেবর মরদেহ শনাক্ত করেন।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক রায়হানুল আশরাফ জানান, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। কারও অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটের ইজারাদারের অবহেলা প্রমাণিত হলে ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









