কুষ্টিয়া জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাম ও ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে দুই ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর ভিড়। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হারও আশাব্যঞ্জক।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন রোগী, বিপরীতে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন। স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে হাম বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ সাব্বির হাসান খান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রতিবেদনে এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২১ অক্টোবর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগে ভর্তি থাকা ৫৪ জন রোগীর মধ্যে থেকে এ সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৮ জন হাম রোগী।
স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বমোট ২,৫০৭ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায়ও চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫১ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ও সুস্থ হওয়াদের হিসাব মিলিয়ে বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৪৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুমুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এই চার মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪ জন রোগীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন বলেন, ‘‘ঋতু পরিবর্তন এবং স্থানীয় পরিবেশগত কারণে হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক চাপ কিছুটা বেশি রয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









